তিব্বতে ভূমিকম্প: হতাহতের পর ব্যাপক উদ্ধার অভিযান, তৃতীয় মাত্রার সতর্কতা

চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল শিজাংয়ে (তিব্বত) ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৫৪ জন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় ভূমিকম্প জরুরি সাড়াদান ব্যবস্থার সতর্কতা চতুর্থ স্তর থেকে তৃতীয় স্তরে উন্নীত করেছে চীন সরকার। শুক্রবার দেশটির জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। খবর চীনের শিনহুয়া নিউজ। 

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে শিজাংয়ের নাগচু শহরের বাকেন কাউন্টিতে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এতে হতাহতের পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা সমন্বয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সহায়তা দিতে বিশেষ কর্মীদল পাঠিয়েছে কর্তৃপক্ষ। 

চীনের রাষ্ট্রীয় পরিষদের ভূমিকম্প ত্রাণ সদর দপ্তর এবং জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় যৌথভাবে জরুরি সাড়াদান ব্যবস্থার স্তর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এ ছাড়া সদর দপ্তরের একজন উপপ্রধান এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উদ্ধার কার্যক্রমের সমন্বয় ও তদারকি করছেন।

দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে শিজাংয়ের জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগকে ‘উইং লুং’ ড্রোন মোতায়েনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এসব ড্রোনের সাহায্যে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।

উদ্ধার অভিযানে চীনের জাতীয় অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার বাহিনীর ৩৫০ জন উদ্ধারকর্মী এবং ৮৩টি যানবাহন মোতায়েন করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ১২০ জন উদ্ধারকর্মী ও ২৭টি যানবাহন দুর্গত এলাকায় পৌঁছেছে। বাকি ২৩০ জন উদ্ধারকর্মী ও ৫৬টি যানবাহন নাগচু প্রশাসনিক এলাকায় প্রবেশের পর সেখানে যাওয়ার পথে ছিল।

এদিকে, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয়, আঞ্চলিক, পৌর ও কাউন্টি পর্যায়ের কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে ত্রাণসামগ্রী সংগ্রহ ও দুর্গত এলাকায় পাঠানো হয়েছে। পাঠানো সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১ হাজারটি প্রিফ্যাব্রিকেটেড অস্থায়ী ঘর, ৩ হাজার ২৩৯টি তাঁবু, ২ হাজার ৮২১টি ভাঁজ করা খাট এবং ৪ হাজার ২৮০টি কম্বলসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপকরণ।

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার অভিযান, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং জরুরি ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।