তাইওয়ানের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন চাম্পি

প্রবল শক্তি নিয়ে তাইওয়ানের দিকে এগিয়ে আসছে টাইফুন চাম্পি। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে শুক্রবার ও শনিবার তাইওয়ানে তীব্র বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলের দিকে ঝড়টির গতিপথ পরিবর্তন করে চীনের পূর্ব উপকূল থেকে দূরে সরে জাপানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে ঝড়ের প্রভাবে পূর্ব এশিয়াজুড়ে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। খবর বিবিসির। 

চাম্পি তাইওয়ানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফিলিপাইনের উত্তরাঞ্চলের প্রধান দ্বীপ লুজন ও দক্ষিণ তাইওয়ানের মধ্যবর্তী বাতানেস দ্বীপপুঞ্জেও তীব্র ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়েছে। সেখানে পাঁচ ধাপের সতর্কতা ব্যবস্থার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্তর জারি করা হয়েছে। ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাতানেসের স্থানীয় প্রশাসনের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ছবিতে উপকূলীয় গ্রামগুলোতে বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়তে দেখা গেছে। ঝুঁকির কারণে কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

কয়েক দিন আগে চাম্পি চলতি বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়ে পরিণত হয়। মঙ্গলবার বিকেলে ফিলিপাইন সাগরের ওপর দিয়ে অগ্রসর হওয়ার সময় ঝড়টির কেন্দ্রে বাতাসের সর্বোচ্চ স্থায়ী গতিবেগ ঘণ্টায় ২৯৮ কিলোমিটারে পৌঁছায়। শক্তির দিক থেকে এটি ক্যাটাগরি-৫ মাত্রার হারিকেনের সমতুল্য ছিল।

বাতাসের স্থায়ী গতিবেগ ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটার বা তার বেশি হলে কোনো ঘূর্ণিঝড়কে ‘সুপার টাইফুন’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। শুরুতে চাম্পিকেও সুপার টাইফুন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

বুধবার সমুদ্রের ওপর দিয়ে অগ্রসর হওয়ার সময় ঝড়টির শক্তি কিছুটা কমে আসে। তবে শুক্রবার দুপুরের দিকে তাইওয়ানের আবহাওয়া কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ঝড়টির কেন্দ্রের কাছাকাছি বাতাসের স্থায়ী গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৫৫ কিলোমিটার।

টাইফুনের প্রভাবে জাপানের চারটি বিমান সংস্থার ১৬০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া ঝড়ের প্রভাবে জাপানের ওকিনাওয়া অঞ্চলে ৩ হাজার ৬৩০টি পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে ওকিনাওয়া ইলেকট্রিক পাওয়ার। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রবল বাতাস ও বৃষ্টির কারণে বাইরে গিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারের কাজ করা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। তাই দূরনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদ্যুৎ পুনঃসংযোগের কাজ চালানো হচ্ছে।

তাইওয়ান ও জাপানের দিকে ঝড়টির অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকায় দুই অঞ্চলের কর্তৃপক্ষই সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।