ম্যারাডোনা মৃত্যু মামলার রায় ২২ ডিসেম্বর

ফুটবল দুনিয়াকে কাঁদিয়ে ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর চিরবিদায় নিয়েছিলেন ডিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনা। তবে সাড়ে ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁর মৃত্যুর চারপাশের কুয়াশা আর বিতর্কের অবসান ঘটেনি। মস্তিষ্কের সফল অস্ত্রোপচারের পর আর্জেন্টিনার তিগ্রে এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে যখন সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়ায় ছিলেন, ঠিক তখনই মাত্র ৬০ বছর বয়সে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে থেমে যায় ফুটবল জাদুকরের জীবনের চাকা। 

সেই মর্মান্তিক বিয়োগের পেছনে কি লুকিয়ে ছিল চরম চিকিৎসা-অবহেলা? নাকি অজানা কিছু? দীর্ঘ ছয় মাসের রুদ্ধশ্বাস শুনানি আর ৭০ জনেরও বেশি সাক্ষীর বয়ান শেষে এবার সেই প্রশ্নের চূড়ান্ত জবাব দিতে যাচ্ছেন আর্জেন্টিনার আদালত। আগামী ২২ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হবে ম্যারাডোনার মৃত্যু মামলার কাঙ্ক্ষিত রায়।

গত এপ্রিলে শুরু হওয়া এই বিচারিক লড়াইয়ে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে ম্যারাডোনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক লিওপোলদো লুকেসহ সাতজন স্বাস্থ্যকর্মীকে। প্রথাসিদ্ধ যুক্তিতর্ক ও বয়ান পেশের মধ্য দিয়ে গত বৃহস্পতিবার আদালতে সমাপ্তি ঘটে দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার। চূড়ান্ত দিনে আদালতের এজলাসে যখন ম্যারাডোনার মেয়ে দালমা ম্যারাডোনা বক্তব্য দিতে উঠলেন, তখন পুরো কক্ষে নেমে আসে পিনপতন নীরবতা। 

আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন ম্যারাডোনার মেয়ে দালমা, ছবি: সংগৃহীত

আবেগে কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে এলেও আদালতে দেওয়া নিজের বয়ানে দালমা বলেন, ‘আমি আশা করি, আমার বাবা তাঁর প্রাপ্য ন্যায়বিচার পাবেন, ঠিক যেমনটা অন্য যেকোনো মানুষের পাওয়া উচিত।’ 

ঠিক বিপরীত মেরুতে অবস্থান নিয়ে ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত ও ম্যারাডোনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক লিওপোলদো লুকে আত্মপক্ষ সমর্থনে অনড় থাকেন। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে আদালতের এজলাসে লিওপোলদো লুকে দাবি করেন, ‘আমি একদম নির্দোষ। ম্যারাডোনার সঙ্গে আমার সবচেয়ে বেশি যোগাযোগ ছিল বলেই আজ আমাকে আক্রমণ করা এত সহজ হচ্ছে। আজ কেবল ডিয়েগো বেঁচে থাকলে তিনিই আমাকে রক্ষা করতেন।’ 

নিজের আবেগের কথা জানিয়ে একই জায়গায় লুকে আরও যোগ করেন, ‘আমি তাঁকে গভীরভাবে যত্ন করতাম, ভালোবাসতাম; তিনি ছিলেন আমার আদর্শ এবং একই সঙ্গে আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু।’ 

মামলাটিতে প্রসেকিউশন ও চিকিৎসাবিশেষজ্ঞদের মূল যুক্তি ছিল, হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ এড়িয়ে সাধারণ একটি ভাড়া বাড়িতে ম্যারাডোনাকে রাখার সিদ্ধান্তই ছিল চিকিৎসকদের চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা। জরুরি চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় শয্যা, ডিফিব্রিলেটর কিংবা প্রস্তুত অ্যাম্বুলেন্স না থাকা ছাড়াও মৃত্যুর আগে শরীরে পানি জমা, তীব্র শ্বাসকষ্ট ও অস্বাভাবিক হৃৎস্পন্দনের মতো স্পষ্ট শারীরিক উপসর্গ সত্ত্বেও কেয়ারটেকার ও চিকিৎসকেরা নীরব ভূমিকা পালন করেছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রধান অভিযুক্ত লুকের সর্বোচ্চ ১২ বছরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে চার থেকে ১২ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ উস্কে দিয়ে লুকেকে এই মামলার 'বলির পাঁঠা' বানানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন। ময়নাতদন্তের ভিডিও ও বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে ডিয়েগোর দুই মেয়ের ক্ষোভের মুখেও পড়েন তাঁরা।