আবারও দেশের দ্রুততম মানব-মানবীর মুকুট জিতেছেন যথাক্রমে ইমরানুর রহমান ও শিরিন আক্তার। শুক্রবার ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে কোকো জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকসের পুরুষদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে ১০.৫৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে সোনা জিতেছেন লন্ডন প্রবাসী এই অ্যাথলেট। এবারই প্রথম কোনো ঘরোয়া অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতায় রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পদক নেওয়ার অভিজ্ঞতাও হলো তাঁর। স্বর্ণ জয়ের পর ইমরান বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, এটা আমার জন্য বিশেষ একটি মুহূর্ত। সেনাবাহিনীর হয়ে স্বর্ণপদক জিততে পেরে আমি গর্বিত। আমি মোটামুটি ভালো দৌড়েছি। তবে জয় নিশ্চিত করার দিকেই বেশি মনোযোগ ছিল। কারণ সামনে আমার ২০০ মিটার ও ১০০ মিটার রিলেও রয়েছে। তাই শরীর সতেজ রাখতে চেয়েছি।’ ইমরানের পর দ্বিতীয় হয়েছেন মোহাম্মদ ইসমাইল, তিনি সময় নিয়েছেন ১০.৬৬ সেকেন্ড। ১০.৭৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় হয়েছেন তারেক রহমান।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলগীরের হাত থেকে পদক পাওয়াকে নিজের পাশাপাশি দেশের অ্যাথলেটিকসের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন ইমরান। তাঁর মতে, খেলাধুলার উন্নয়নে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এমন একজনের উপস্থিতি ও সমর্থন অনেক বেশি প্রয়োজন। ইমরান বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে পুরস্কার নেওয়া অবশ্যই সম্মানের। অ্যাথলেটিকসের জন্যও এটি বিশেষ উপলক্ষ। আমাদের খেলাটির আরও প্রচার ও সমর্থন দরকার। দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এভাবে পাশে থাকলে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে প্রতিযোগিতা আয়োজন করা সম্ভব হবে।’
এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়ার পর এবার ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় নিজের টাইমিং নিয়ে প্রশ্নের মুখেও পড়েন ইমরান। এ বিষয়ে তিনি বলেন, সব সময় প্রত্যাশা অনুযায়ী দৌড়ানো সম্ভব হয় না। প্রস্তুতি যথাযথ না হওয়া কিংবা অন্য কিছু কারণেও টাইমিংয়ে পার্থক্য আসতে পারে। ক্রীড়াবিদদের সব প্রতিযোগিতায় সমান ভালো পারফরম্যান্স হয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সামনে এসএ গেমসে ভালো করার লক্ষ্যও রয়েছে তাঁর। তবে সাফল্যের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও মানসম্মত প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিয়েছেন এই স্প্রিন্টার। ইমরানের বিশ্বাস, উপযুক্ত সুযোগ-সুবিধা ও পূর্ণ প্রস্তুতি নিশ্চিত করা গেলে এসএ গেমসে স্বর্ণপদকের জন্য লড়াই করা সম্ভব।
এদিকে নারীদের ১০০ মিটার দৌড়ে শিরিন আক্তার ১২.০৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে প্রথম হয়েছেন। শরীফা খাতুন ১২.২৩ সেকেন্ড এবং সুমাইয়া দেওয়ান ১২.৩৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে পরের দুটি অবস্থানে ছিলেন। বাংলাদেশের নারী স্প্রিন্টে নিজের আধিপত্য ধরে রেখেছেন শিরিন আক্তার। জাতীয় পর্যায়ে ১৮তমবারের মতো সেরা হয়ে উচ্ছ্বসিত এই অ্যাথলেটের লক্ষ্য এখন নিজের টাইমিংয়ের উন্নতি এবং আগামী এসএ গেমসে ভালো ফল করা। পাশাপাশি খেলাধুলার সঙ্গে উচ্চশিক্ষাও চালিয়ে যেতে চান তিনি। দেশের বাইরে পিএইচডি করার প্রস্তুতির পাশাপাশি বিদেশে উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগও খুঁজছেন শিরিন।
১৮তমবার সেরা হওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে শিরিন বলেন, ‘অসাধারণ ছিল। প্রতিটি সফলতা নিজের একার হয় না। অনেক মানুষ ও প্রতিষ্ঠান এর পেছনে কাজ করে। আমার কোচ আব্দুল্লাহেল কাফি, তাঁর পরিবার, আমার ছোট ভাই ও তার পরিবার, নিজের পরিবার এবং স্বামী লিংকনসহ সবাই সব সময় পাশে ছিলেন।’ শিরিন যোগ করেন, ‘কতবার চ্যাম্পিয়ন হব, তা নির্দিষ্ট করিনি। তবে সামনে নিজের টাইমিংগুলো সেরা করার ইচ্ছা আছে। বাকিটা আমার কোচ বলতে পারবেন, আমাকে নিয়ে তাঁর কী পরিকল্পনা রয়েছে।’ সামনে এসএ গেমস। সেখানে ভালো করতে হলে নিজের টাইমিং আরও কমাতে হবে, সেটি বুঝতে পারছেন শিরিন। এ নিয়ে কাজও করছেন তিনি। তাঁর আশা, পরিকল্পিত অনুশীলনের মাধ্যমে সামনে আরও ভালো সময় উপহার দিতে পারবেন।
এবারের প্রতিযোগিতায় রাষ্ট্রপতির উপস্থিতি ও তাঁর হাত থেকে পদক পাওয়া শিরিনের কাছে ছিল বিশেষ অভিজ্ঞতা। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে খেলাধুলাকে গুরুত্ব দেওয়ায় অ্যাথলেটরা উৎসাহিত হচ্ছেন বলে মনে করেন তিনি। শিরিন বলেন, ‘এটা অসাধারণ অনুভূতি। এতে বোঝা যায়, সরকার খেলাধুলাকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। আমরাও উৎসাহিত হচ্ছি। পুরো বাংলাদেশ দেখছে কে দ্রুততম মানবী হয়েছে। রাষ্ট্রপ্রধান এসে আমাদের পুরস্কৃত করছেন—বিষয়টি আমার কাছে সত্যিই অসাধারণ লেগেছে।’