আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে জনগণ অসহায়: নাহিদ ইসলাম

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের প্রতিবাদে আগামী ৩০ অক্টোবরের গণবিক্ষোভ কর্মসূচি সফল করতে লিফলেট বিতরণ ও সংক্ষিপ্ত পথসভা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দলটির মেয়রপ্রার্থী আসিফ মাহমুদ এবং দক্ষিণের মেয়রপ্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশে একদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে, অন্যদিকে সন্ত্রাস ও মাদক কারবারিদের নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ও বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন চলছে। সাংবাদিকেরাও দমন-পীড়নের শিকার হচ্ছেন।

তিনি বলেন, নেত্রকোনায় প্রকাশ্যে একজন সাংবাদিককে গুলি করা হয়েছে। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকায় ৬০টি যানবাহনে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এতটাই বেড়েছে যে তা মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। নির্বাচনের পরও এলপিজি গ্যাসের দাম ১ হাজার ২০০ টাকা ছিল। বর্তমানে সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এর দাম ১ হাজার ৮০০ টাকা। বেসরকারিভাবে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।

তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ অসহায় বোধ করছে। এ অবস্থায় জাতীয় নাগরিক পার্টি জনগণের পাশে রয়েছে। সার্বিক ব্যর্থতার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।

সংবিধান সংশোধন কমিটি নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, জনগণের সঙ্গে প্রহসন করতেই একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করা হয়েছে। অবিলম্বে এ কমিটি বিলুপ্ত করে গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে।

তিনি বলেন, জনগণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান চেয়েছিল। সেই প্রতিষ্ঠানগুলো নিশ্চিত করতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ বন্ধ করতে হবে। সাইবার আইন সংশোধনের উদ্যোগও নেওয়া যাবে না। প্রস্তাবিত সংশোধনী কোনোভাবেই সংসদে পাস হতে দেওয়া হবে না।