জীবনযুদ্ধে সাহসী নাম পরী মণি

হোঁচট খেয়েছেন, আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছেন, কখনও কেঁদেছেন, আবার মুখে ফুটেছে হাসি। ব্যক্তিজীবনে নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। যার কথা বলছি, তিনি চিত্রনায়িকা পরীমণি। পরীমণি যেন জীবনযুদ্ধে এক সাহসী নাম। আজ এই সাহসী নায়িকার জন্মদিন।

১৯৯২ সালের ২৪ অক্টোবর সাতক্ষীরায় জন্ম নেওয়া পরীমণির আসল নাম শামসুন্নাহার স্মৃতি। মাত্র তিন বছর বয়সে মাকে হারানোর পর পিরোজপুরের শঙ্করপাশা গ্রামে নানাবাড়িতে কেটেছে তার শৈশব। নানা শামসুল হক গাজীর পরম স্নেহ ও ছায়ায় বেড়ে ওঠেন তিনি। নানা বেঁচে থাকা অবস্থায় জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে জন্মদিন পালন করেছেন পরী। ২০২৩ সালে প্রিয় নানাকে হারানোর পর থেকেই এই দিনে বড় পরিসরে আনন্দ উদযাপনের কথা আর ভাবতে পারেন না তিনি। তবে কাছের কিছু মানুষ ও প্রিয়জনদের নিয়ে একটি সুন্দর সন্ধ্যা কাটানোর পরিকল্পনা করেছেন এই তারকা। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি জানান, নানুভাই চলে যাওয়ার পর কেক কাটা কিংবা হইচই করার ভাবনা আর মনে আসে না, তবুও প্রিয়মুখগুলোর সান্নিধ্যে একটি সুন্দর সন্ধ্যা কাটানো যেতেই পারে।

শৈশব থেকেই নাচ ও অভিনয়ের প্রতি গভীর অনুরাগ ছিল তার। বুলবুল একাডেমি অব ফাইন আর্টসে (বাফা) নাচ শিখে টেলিভিশনের ছোট পর্দায় কাজ শুরু করেন। ‘সেকেন্ড ইনিংস’, ‘এক্সক্লুসিভ’ ও ‘নারী ও নবনীতা তোমার জন্য’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ের দুনিয়ায় নিজের অবস্থান তৈরি করেন। এরপর ২০১৫ সালে ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তার। প্রথম থেকেই সাবলীল অভিনয় ও আকর্ষণীয় উপস্থিতিতে দর্শকদের মনে জায়গা করে নেন এই নায়িকা।

ক্যারিয়ারের শুরুতে একসঙ্গে বহু চলচ্চিত্রে চুক্তিবদ্ধ হয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেন তিনি। এর মধ্যে ‘রূপবান’, ‘স্বপ্নজাল’, ‘বিশ্বসুন্দরী’, ‘গুণীন’, ‘প্রীতিলতা’, ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’, ‘মা’ এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ‘রঙিলা কিতাব’ তার অভিনয় প্রতিভার উজ্জ্বল স্বাক্ষর। মাতৃত্বের সংগ্রাম, গ্রামীণ তরুণীর সরলতা কিংবা জটিল মনস্তাত্ত্বিক চরিত্র ফুটিয়ে তোলার মুনশিয়ানা তাকে ইন্ডাস্ট্রির প্রথম সারির তারকাদের কাতারে নিয়ে গেছে।

ব্যক্তিগত জীবনের বহু ঝড়ঝাপটা ও প্রতিকূলতা পেরিয়ে পরী উজ্জ্বল তারকা।

এখন তার দুই সন্তান শাহীম মুহাম্মদ পুণ্য এবং সাফিরা সুলতানা প্রিয়মকে ঘিরেই জীবনজুড়ে অনাবিল আনন্দ। জন্মদিনের বিশেষ এই মুহূর্তে অনুরাগীদের অন্তহীন ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন।