‘তৃতীয়’ হওয়ায় বাদ সৌম্য

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার দৌড়ে থাকা বাংলাদেশের সামনে এখন ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ। এ জন্য গতকাল ১৫ সদস্যের দল দিয়েছেন নির্বাচকরা। তবে সম্ভাব্য একাদশে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকায় টেস্ট স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন সৌম্য সরকার। সেটাও দীর্ঘদিন পর দলে ফিরে কোনো ম্যাচ না খেলেই। মূলত তৃতীয় ওপেনার হিসেবে তাকে দলে না রেখে ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেলার সুযোগ করে দেওয়াকেই যুক্তিযুক্ত মনে করেছে বোর্ড। অন্যদিকে, চোট থাকলেও দলে আছেন লিটন দাস। তাসকিন আহমেদ ফিরেছেন। এখনো চোটমুক্ত না হওয়ায় সুযোগ পাননি নাহিদ রানা।

সম্প্রতি ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে ব্যাট হাতে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি সৌম্য। জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে রানখরায় ভুগেছেন তিনি। আউট হওয়ার ধরনও বেশ প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। তবে ওয়ানডেতে রান না পাওয়ার জন্য সৌম্য টেস্ট দল থেকে বাদ পড়েননি বলেই দাবি নির্বাচকদের। এ নিয়ে প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার বলেন, ‘সম্প্রতি একদিনের সিরিজে সৌম্য সরকারের ব্যাটে রান আসেনি, তবে খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই সে একটা ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেছিল। এই মুহূর্তে তাকে বাদ দেওয়ার পেছনে যৌক্তিক কারণ হলো, দেশে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট চলছে। টেস্টে আমাদের নিয়মিত উদ্বোধনী জুটিই হয়তো খেলবে, সে ক্ষেত্রে একাদশে সৌম্যের খেলার সম্ভাবনা বেশ কম ছিল।’ ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার সুযোগ দিতেই সৌম্যকে টেস্ট দলে রাখেননি বলে দাবি বাশারের, ‘আমরা চেয়েছি, সে দলে বসে না থেকে প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলুক। যে কারণে আমরা দলে বাড়তি কোনো তৃতীয় ওপেনার রাখিনি, যেন সবাই প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে ম্যাচ খেলার প্রস্তুতির মধ্যে থাকতে পারে।’

ওয়ানডে সংস্করণের ব্যর্থতা ভুলে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সম্ভাব্য সেরা দলই নির্বাচন করেছেন বলে দাবি নির্বাচকদের। নিজেদের পছন্দ করা এই দল নিয়ে প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য খুবই স্পষ্ট। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে এই দুটি টেস্ট আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা খুব বেশি পরিবর্তন করিনি। লিটনের চোট নিয়ে সামান্য অনিশ্চয়তা থাকলেও আমরা আশাবাদী, সে সুস্থ হয়ে উঠবে। আমাদের টেস্ট দল ভালো ক্রিকেট খেলছে। আশা করি, এই সিরিজেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারব।’

লিটনের জন্যই দল দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে নির্বাচকদের। নিতম্বের চোটে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ত্রিদেশীয় একদিনের সিরিজে খেলতে পারেননি এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। এই চোট থেকে এখনো পুরোপুরি সেরেও ওঠেননি তিনি। আজ ফিটনেস টেস্ট দেওয়ার কথা আছে তার। টিম ম্যানেজমেন্টের সদস্যরা মনে করেন, আগামী ২৮ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া মিরপুর টেস্ট থেকেই পাওয়া যাবে লিটনকে। যদিও বিকল্প ভেবে রেখেছেন নির্বাচকরা। বাড়তি উইকেটরক্ষক হিসেবে দলে আছেন জাকের আলী।

জাকেরকে বেছে নেওয়ার পেছনে অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন বাশার, ‘মূল উইকেটরক্ষক হিসেবে আমাদের প্রথম পছন্দ লিটন। প্রশ্ন হলো, বিকল্প উইকেটরক্ষক কে হবেন। জাকের কিছুদিন ফর্মহীনতায় ভোগার পর ঘরোয়া ক্রিকেটের সব ধরনের প্রতিযোগিতায় রান করে দুর্দান্তভাবে ফিরে এসেছে। সামনে দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবা ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলা রয়েছে। এসব ম্যাচে চাপের মুহূর্তে অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়।’ তবে জাকের ফেরার আগে সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ পর্যন্তও নির্বাচকদের আস্থায় ছিলেন অমিত হাসান। সর্বশেষ আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে বাদ পড়েন তিনি। এবারও তাকে না রাখার কারণ হিসেবে প্রধান নির্বাচকের জবাব, ‘অমিত সবেমাত্র উঠে আসছে। তাকে হুট করে কঠিন চাপের মুখে না ফেলে ধীরে ধীরে সুযোগ দিতে চাই। সে অবশ্যই আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় রয়েছে।’

টেস্ট দল নিয়ে সংবাদ সম্মেলন হলেও ঘুরেফিরে বাংলাদেশ দলের ওয়ানডে সংস্করণের ব্যর্থতার প্রসঙ্গও উঠে এলো। এই ব্যর্থতা স্বীকার করা হাবিবুল মনে করেন, ক্রিকেটাররা ফর্মহীনতা কাটিয়ে দ্রুতই ছন্দে ফিরবেন। বিশেষ করে প্রথম সারির ব্যাটারদের পারফরম্যান্সে হতাশ প্রধান নির্বাচক, ‘টেস্টে ব্যাটাররা নিয়মিত রান করছে এবং পুরো ব্যাটিং বিভাগকে বেশ থিতু মনে হচ্ছে। কিন্তু একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শেষ কয়েকটি ম্যাচে আমাদের পারফরম্যান্স হতাশাজনক ছিল। ওপরের সারির ব্যাটাররা রান না পাওয়ায় নিয়মিত বড় সংগ্রহ হচ্ছে না। তবে এর আগে আমরা টানা কয়েকটি একদিনের আন্তর্জাতিক সিরিজ জিতেছি। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো বড় দলকে হারিয়েই আমরা যোগ্যতা অর্জন করেছি। সাম্প্রতিক ফর্মহীনতা কাটিয়ে খেলোয়াড়রা দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে বলে আমার বিশ্বাস।’