তিন দাবিতে ৩০ অক্টোবর এনসিপির গণবিক্ষোভ

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের প্রতিবাদে আগামী ৩০ অক্টোবর গণবিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ওই দিন দুপুর ২টায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছে দলটি। গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত প্রচারপত্রে এনসিপি অভিযোগ করেছে, ফ্যাসিবাদের পতনের পর গণতান্ত্রিক ও ইনসাফভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা খুন, সরকারদলীয় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, ছিনতাই ও বাজার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি দলটির।

প্রচারপত্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির উদাহরণ হিসেবে কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করেছে এনসিপি। এতে বলা হয়, গত ১৫ অক্টোবর নেত্রকোনায় প্রকাশ্যে গুলি করে এক সাংবাদিককে হত্যা করা হয়। পরদিন চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে আরেক সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া গত ১৯ অক্টোবর কক্সবাজারের বিভিন্ন সড়কে এক দিনে ৫০ থেকে ৬০টি যানবাহনে ডাকাতি ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে দলটি।

এনসিপির অভিযোগ, গত ২৪ সেপ্টেম্বর সরকারদলীয় একজন সংসদ সদস্যের নেতৃত্বে মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া সামাজিক মাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করায় অন্তত ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও প্রচারপত্রে উল্লেখ করা হয়। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) তথ্যের বরাত দিয়ে প্রচারপত্রে বলা হয়েছে, গত ৯ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতা ও বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ১১৩ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন ১৮৭ জন। এ ছাড়া ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৬৩৭ জন নারী, যাদের অধিকাংশই শিশু বলে উল্লেখ করেছে দলটি।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে এনসিপি। প্রচারপত্রে বলা হয়েছে, আগে ১২ কেজি এলপিজি গ্যাসের দাম ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা থাকলেও বর্তমানে তা ১ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। আগে মাসে বিদ্যুৎ বিল ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা থাকলেও এখন তা ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত হচ্ছে বলে দাবি দলটির।

গণবিক্ষোভ থেকে তিন দফা দাবি জানাবে এনসিপি। দাবিগুলো হলো ব্যর্থতার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে; একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বিলুপ্ত করে গণভোটের গণরায়ের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে; এবং সাইবার আইনসহ সব কর্তৃত্ববাদী আইন বাতিল করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে ৩০ অক্টোবরের গণবিক্ষোভে অংশ নিয়ে কর্মসূচি সফল করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি।