ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে নিজ ফ্ল্যাট থেকে মোসা. ডালিয়া আক্তার (৫০) সুমা নামে যুব মহিলা লীগের এক নেত্রীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ। গতকাল শুক্রবার সকালে বাস্তা ইউনিয়নের রসুলপুর এলাকায় মনোয়ারা প্লাজা মার্কেটের তৃতীয় তলায় তার নিজস্ব ফ্ল্যাট থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত ডালিয়া আক্তার সুমা বাস্তা ইউনিয়ন যুব মহিলা লীগের সভাপতি ও ঢাকা জেলা দক্ষিণ যুব মহিলা লীগের সদস্য ছিলেন। সেই সঙ্গে তিনি বাঘাপুর চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খ-কালীন শিক্ষিকা হিসেবেও কর্মরত ছিলেন। তবে দুই মাস আগে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফ্ল্যাটের মেঝেতে ডালিয়া আক্তারের মরদেহ পড়ে ছিল। ঘরের মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল রক্ত। সেখানে পায়ের ছাপও দেখা গেছে বলে জানান স্থানীয়রা। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে কারা, কী কারণে তাকে হত্যা করেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১২ বছর আগে স্বামী লিয়াকত আলীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর দুই মেয়ে নদী ও লিজাকে নিয়ে ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন ডালিয়া। ফ্ল্যাটটি তার নিজের কেনা। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে তিনি একাই সেখানে থাকতেন। গতকাল শুক্রবার সকালে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের ছোট মেয়ে লিজা বলেন, ‘আমি সকালে প্রতিবেশীদের থেকে খবর পেয়ে বাসায় ছুটে এসে দেখি আমার মা এভাবে লাশ হয়ে পড়ে আছে। আমার মা জীবনে কারো কোনো ক্ষতি করেনি। কী অপরাধ ছিল আমার মায়ের, যে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো? যারা আমার মাকে হত্যা করেছে, সরকারের কাছে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি জানাচ্ছি।’
কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিলুল হক বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে চলে আসি। সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসছেন। ফাঁকা বাসায় কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে। তার সন্তানদের সঙ্গে কথা বলে কারও সঙ্গে কোনো বিরোধ ছিল কি না, তা জানার চেষ্টা করব। হত্যাকা-ের কারণ উদ্ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।