দুই পাশে পাকা মাঝখানে বিভাজনের ক্ষত

সড়ক প্রশস্ত করার পরিকল্পনায় মাঝখানে রাখা হয়েছিল জায়গা। দুই পাশে পাকা সড়ক নির্মাণ হলেও মাঝের অংশটি ঢালাই করা হয়নি। সেই অবস্থায় কেটে গেছে ৮ থেকে ৯ বছর। মাঝের অংশটি এখন যেন সড়কের ‘ক্ষত’। বৃষ্টি হলে সেখানে জমে পানি, ছড়িয়ে থাকে ইট-পাথরের খোয়া ও মাটি। এতে যান চলাচলে বিঘেœর পাশাপাশি ঘটছে দুর্ঘটনা।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কাশিমপুর এলাকার লালদীঘি থেকে জিরানী বাজার এবং কাশিমপুর বিএডিসি থেকে শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কের চিত্র এটি। গুরুত্বপূর্ণ এ দুটি সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করে। আশুলিয়া, নবীনগর, জিরানী, কাশিমপুর ও কোনাবাড়ী এলাকার মানুষও এই সড়ক ব্যবহার করেন। দুই পাশে অসংখ্য শিল্পকারখানা থাকায় কর্মজীবী মানুষ ও পণ্যবাহী যানবাহনের চলাচলও রয়েছে ব্যাপক।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের মেয়াদকালে সড়ক দুটির উন্নয়নকাজ শুরু হয়। তখন ভবিষ্যতে সড়ক ৬০ ফুট পর্যন্ত প্রশস্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। মাঝখানে ডিভাইডার নির্মাণের জন্য জায়গা রেখে দুই পাশে সড়ক পাকা করা হয়। তবে পরবর্তীতে সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ আর এগোয়নি। ফলে মাঝখানের অংশটিও আর ঢালাই করা হয়নি। রবিবার সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশে পাকা অংশ থাকলেও মাঝখানে দীর্ঘ একটি অংশজুড়ে ইট-পাথর ও মাটি পড়ে রয়েছে। কোথাও কোথাও অংশটি মূল সড়কের তুলনায় নিচু হয়ে আছে। বৃষ্টির সময় সেখানে পানি জমে কাদার সৃষ্টি হয়। যানবাহন চলাচলের সময় চালকদের এক পাশ থেকে অন্য পাশে যেতে সমস্যা হয়। পাশাপাশি খালি অংশ এড়িয়ে চলতে গিয়ে অনেক সময় যানবাহন মূল সড়কের ওপর চাপ তৈরি করে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে এ অবস্থা চললেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। বর্তমানে এটি যেমন যানবাহনের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে, তেমনি দুর্ঘটনাও ঘটছে প্রতিনিয়ত। শিল্পাঞ্চল হওয়ায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এ সড়ক দিয়ে শ্রমিক বহনকারী যানবাহন, পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের যান চলাচল করে। সড়কের মাঝখানের খালি অংশটি পরিকল্পিতভাবে দ্রুত সংস্কার ও প্রশস্ত করা হলে যান চলাচল আরও স্বাভাবিক হতো।

স্থানীয় বাসিন্দা জুয়েল রানা বলেন, ‘মাঝখানের ওই খালি জায়গায় বৃষ্টি হলে পানি জমে থাকে। তাছাড়া অংশটি মূল রাস্তা থেকে নিচু হওয়ায় অনেক সময় পরিবহন উল্টে দুর্ঘটনা ঘটে।’

আরিফ খান নামের একজন বলেন, ‘জাহাঙ্গীরের সময় এই কাজ শুরু হয়েছিল। এরপর তার মা মেয়র হয়েছিলেন। মাঝে ভারপ্রাপ্ত মেয়র ছিলেন কয়েক বছর কিন্তু এই রাস্তা আর করা হয়নি। দ্রুত এই ভোগান্তির অবসান দরকার।’

সিটি করপোরেশন সূত্র আরও জানায়, অঞ্চল-৮-এর প্রধান সংযোগ সড়ক প্রশস্তকরণ, বিসি/আরসিসি ঢালাই, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণে দুটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে কাশিমপুর বিএডিসি থেকে শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণে প্রাক্কলিত ব্যয় ১৭ কোটি ৫১ লাখ ৪৫ হাজার ৭৯০ টাকা। আর কাশিমপুর জিতার মোড় থেকে জিরানী বাজার পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও ড্রেনেজ কাজে প্রাক্কলিত ব্যয় ৩৮ কোটি ৯১ লাখ ১১ হাজার ১৪৫ টাকা। এ বিষয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৮-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান বলেন, তৎকালীন মেয়র থাকাকালে ৬০ ফুট সড়ক প্রশস্ত করার পরিকল্পনায় মাঝখানে জায়গা রাখা হয়েছিল। পরে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ ছিল। তবে নতুন করে সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুত কাজ শুরু হবে।