চলে গেলেন উদ্ভাবক ও প্রযুক্তি-অন্তপ্রাণ মেজর মো. ময়ীন মিল্লাত চৌধুরী

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা, উদ্ভাবক, প্রযুক্তি-অন্তপ্রাণ ও “সৌখিন বিজ্ঞানী” হিসেবে পরিচিত বিএ-২৮৩০, মেজর মো. ময়ীন মিল্লাত চৌধুরী গত ১৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ঢাকা সিএমএইচ-এ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মেজর মিল্লাতের মৃত্যুর পর তাঁর পরিচিত মানুষের মাঝে, বিশেষত অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমেছে। তাঁকে শ্রদ্ধা ও স্মরণে ভাসছিল সোশ্যাল মিডিয়া।

ভাটিয়ারি থেকে এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি

মেজর মিল্লাত ১২তম দীর্ঘ মেয়াদী কোর্স বা টুয়েলভ লং কোর্সের সঙ্গে কমিশন লাভ করেন। আমিও এই কোর্সের সঙ্গে কমিশন লাভ করি। ১৯৮৫ সালের ১৮ মে আমাদের পাসিং আউট প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের নিকটবর্তী ভাটিয়ারিতে অবস্থিত বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ) ছিল আমাদের স্বপ্নের ভূমি। এখান থেকে কমিশন লাভ করে ১২৪ জন তরুণ অফিসার (সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট) বিভিন্ন সেনানিবাস ও ইউনিটে ছড়িয়ে পড়েন।

সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট মিল্লাতের পোস্টিং হয় চট্টগ্রাম সেনানিবাসস্থ ২১ এলএএ রেজিমেন্ট আর্টিলারিতে। এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারির একটি ইউনিট। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে “আর্মি এয়ার ডিফেন্স কোর” বর্তমানে একটি স্বতন্ত্র কোর। তরুণ অফিসার হিসেবেই মিল্লাত কম্পিউটার ও ইলেকট্রনিক্স বিষয়ে উৎসাহ দেখান। কম্পিউটার ও ইলেকট্রনিক্সে উৎসাহ ও জ্ঞান থাকায় তিনি এয়ার ডিফেন্স গান, সিগন্যালস ও ইলেকট্রনিক ইকুইপমেন্ট মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে দক্ষতা দেখাতে সক্ষম হন। এখান থেকে তাঁর প্রযুক্তি-প্রতিভা দৃশ্যমান হয়েছিল।

জন্ম ও বেড়ে ওঠা

মো. ময়ীন মিল্লাত চৌধুরী ১৯৪২ সালের ২৪ জুন নোয়াখালীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকার তেজগাঁও কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। তরুণ মিল্লাত ১২ বিএমএ লং কোর্সের সঙ্গে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে ১৯৮৫ সালের ১৯ মে কমিশন লাভ করেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্নাতক। ব্যক্তিগত জীবনে মিল্লাত ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র, বিনয়ী ও পরোপকারী।

মিরপুরের সিলিকন ভ্যালি

১৯৯৪-১৯৯৭ সালে মেজর মিল্লাত বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রতিষ্ঠান “ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ”-এর জিএসও-২ (কম্পিউটার) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। উল্লেখ্য, সেটি ছিল সামরিক বাহিনীতে কম্পিউটার বা তথ্যপ্রযুক্তির প্রাথমিক দিন। কম্পিউটার ও প্রযুক্তির বিষয়ে মিল্লাতের প্রবল উৎসাহের কারণে এই নতুন প্রযুক্তিতেও তিনি বিশেষ দক্ষতা প্রদর্শন করেন। সেখানে গড়ে তোলেন চমৎকার একটি কম্পিউটার ল্যাব।

বলা যায় যে, স্টাফ কলেজে তিনি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও বিকাশের গোড়াপত্তন করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালিতে তখন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের বিপ্লব ঘটে গেছে। মেজর মিল্লাত কম্পিউটার বিষয়ে অনেক স্বপ্ন দেখতেন। তাঁর চোখে ছিল সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি-রোমান্টিকতা। ১৯৯০-এর দশকে মিরপুরের পল্লবী শপিং সেন্টারে প্রতিষ্ঠা করলেন “সিলিকন ভিউ কম্পিউটার”। এই প্রতিষ্ঠানটি এই অঞ্চলে তথ্যপ্রযুক্তির আলো ছড়িয়েছে।

রণ থেকে প্রযুক্তি

সেনাবাহিনীতে মেজর মিল্লাতের ক্যারিয়ার ছিল মাত্র ১৩ বছরের—১৯৮৫ থেকে ১৯৯৮। ২১ এলএএ রেজিমেন্ট ও স্টাফ কলেজ ছাড়াও তিনি আর্টিলারি সেন্টার অ্যান্ড স্কুল, ১ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি ও ৫ এডি রেজিমেন্ট আর্টিলারিতে কর্মরত ছিলেন। যেখানে চাকরি করেছেন, সেখানেই রেখে গেছেন পেশাগত দক্ষতা ও আন্তরিকতার ছাপ।

১ আগস্ট ১৯৯৮ সালে সেনাবাহিনী থেকে অকালকালীন (স্বেচ্ছায়) অবসর গ্রহণ করেন। এরপর শুরু হয় নতুন জীবনসংগ্রাম। একই সঙ্গে চলতে থাকে স্বপ্নের বাস্তবায়ন। প্রথম কয়েক বছর গার্মেন্টসসহ কয়েকটি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। কিন্তু এক পর্যায়ে শুরু হয় তাঁর বিজ্ঞানী-উদ্যোক্তার জীবন। এই সময়টি ছিল একই সঙ্গে আনন্দ ও বিষাদের।

স্বপ্নের পেছনে ছোটার যে সময়

মেজর মিল্লাতের ঢাকার শ্যামলীস্থ বাসায় ছিল তাঁর ল্যাবরেটরি। বসিলায় গড়ে তোলেন একটি ওয়ার্কশপ। কত যে নতুন নতুন প্রকল্প! কখনো গ্রিন ফুয়েল মোটরসাইকেল, রিসার্কুলেটিং একুয়াকালচার সিস্টেম (মৎস্য প্রকল্প), সুপার ক্যাপাসিটর ব্যাটারি (অটোরিকশা), লিথিয়াম ব্যাটারি, সাশ্রয়ী চুলা, সোলার প্যানেল—কখনো বিভিন্ন ধরনের মেশিন তৈরি...। একসময় গড়ে তোলেন “Nextgen Power BD”। শেষের দিকে তাঁর স্বপ্নের প্রকল্প ছিল “সোলার এনার্জি”। এর জন্য তিনি চীন ও তাইওয়ানের প্রযুক্তিবিদদের সঙ্গে অনেক যোগাযোগ করেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন কিছু পোস্ট

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্টিলারি কোরের সেনা কর্মকর্তা ও জিও-পলিটিক্স-উৎসাহী মেজর ইকবাল শাহরিয়ার (অব.) ও মরহুম মেজর মিল্লাত আর্টিলারি সেন্টার অ্যান্ড স্কুলে একসঙ্গে চাকরি করতেন। তিনি কোর্সমেট মেজর মিল্লাতের সৃজনশীল চিন্তা ও আবিষ্কার নিয়ে গত ২০ অক্টোবর ফেসবুকে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন—

“মেজর মিল্লাতের ভেতর একটা ইনোভেশন স্কিল কাজ করতো। সেখান থেকেই তাঁর ভেতর কিছু সৃজনশীল চিন্তা সৃষ্টির শুরু। সে গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে নতুন ও মৌলিক কোনো চিন্তা বা ধারণা তৈরি করতে পছন্দ করতো। নতুন কিছু করার জন্য পরিকল্পিত ঝুঁকি নিতেও সে প্রস্তুত থাকতো।

...সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে তাঁর পরীক্ষা-নিরীক্ষা সেই ১৯৮৮-৮৯ সনে দেখেছি। ডিজিটাল টেকনোলজি বা ইলেকট্রিসিটি ও ইলেকট্রনিক্স নিয়ে তাঁর কোনো ডিগ্রি ছিল না; কিন্তু সে বেসুমার বিভিন্ন সার্কিট তৈরি করতো, সফটওয়্যার তৈরির চেষ্টা করতো, বিভিন্ন ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষা চালাতো।

...আজ কক্সবাজারে এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারির ফায়ারিং দেখলাম। বিমানবিধ্বংসী আর্টিলারির কামান এবং মিসাইলকে ফায়ার করতে হয় কোনো উড়ন্ত ড্রোন/ফ্লাইং ভেসেলের ওপর। এই ড্রোন/ফ্লাইং ভেসেল বাইরে থেকে ক্রয় করার চেয়ে নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি করতে পারলে আমাদের প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা বেঁচে যায়। এ ব্যাপারে মিল্লাতের প্রচেষ্টা আমার সচক্ষে দেখা। সে নিজ প্রচেষ্টায় প্রচুর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে।

নিজের পকেটের বেশ পয়সা খরচ করেছে। জ্বালানি সেক্টরে সৌর বিদ্যুৎ ও কোস্টাল এরিয়াতে বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনে মিল্লাতের চিন্তা-চেতনা এবং উদ্ভাবনের প্রচেষ্টা শুধু প্রয়োজনীয় ফান্ড এবং সহায়তার জন্যই আলোর মুখ দেখতে পারেনি।”
১২ লং কোর্সের চিন্তাশীল ও কর্মচঞ্চল সেনা কর্মকর্তা মেজর মোঃ আব্দুর রশিদ সিদ্দিকী (অব.) “সোলার এনার্জি” প্রকল্পে মেজর মিল্লাতের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি ফেসবুকে লেখেন, “Maj Millat was a scientist, a resource, a hidden talent in silence...! A dazzling star dies down. We dreamt together big to invent something new in our energy sector...”

পরিবারে প্রযুক্তির যে ধারা

বন্ধু মিল্লাতের সঙ্গে প্রযুক্তি ও আবিষ্কার নিয়ে বিভিন্ন সময় আলাপ হতো। তাঁর প্রযুক্তির জ্ঞান ও আবিষ্কারের নেশা আমাকে বিস্মিত করত। তাঁর কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং, কারিগরি বা প্রযুক্তি বিষয়ে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা বা ডিগ্রি ছিল না। বলা যায়, সে ছিলেন সেলফ-মেইড সৌখিন বিজ্ঞানী। তবে পারিবারিক দিক থেকে তাঁর রক্তে প্রবাহমান ছিল প্রযুক্তি-ইঞ্জিনিয়ারিং ও গবেষণার ধারা।

মিল্লাতের পিতা আব্দুল মমিন চৌধুরী ১৯৬২ সালে প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর মাস্টার্স করেন। পরে তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম)-এর সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও বিশ্ব ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন। মাতা নার্গিস আরা চৌধুরী। দুজনেই মিল্লাতকে তাঁর গবেষণায় উৎসাহ দিতেন।

মিল্লাত ছিল অত্যন্ত বন্ধুবৎসল ও পরোপকারী। তাঁর জীবনসঙ্গিনী মোসাম্মৎ খালেদা ফেরদৌস। কঠিন বাস্তবতার ভেতরেও এই নারী মিল্লাতের সকল উদ্যোগের পাশে ছিলেন। তিনি নিজেও একজন নারী উদ্যোক্তা। তাঁদের পুত্র মোঃ শিহাব চৌধুরী ও কন্যা আদিবা চৌধুরী। তাঁরা দুজনই প্রবাসী।

আমরা কেন মিল্লাতের এমন প্রতিভা কাজে লাগাতে পারলাম না?

দুঃখজনকভাবে বিভিন্ন কারণে তাঁর অনেক প্রকল্পই শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। বিশেষত ফাইনাল প্রোডাক্ট হিসেবে মার্কেটে যায়নি। বাংলাদেশি বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবন ও তা বাজারে রূপান্তরের ব্যর্থতা নিয়ে অনেক গল্প আছে। মেজর মিল্লাতের এই ব্যর্থতা তেমনি একটি গল্প। মেধা কেন বাজারে পৌঁছাতে ব্যর্থ হচ্ছে? আত্মসমালোচনায় একাকী ভাবি—আমরা কেন মিল্লাতের এমন প্রতিভা কাজে লাগাতে পারলাম না? তবুও তাঁর গবেষণা-সংগ্রামকে সালাম জানাই।

বাংলাদেশি উদ্ভাবক-বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবন ও তা বাজারে রূপান্তরের ব্যর্থতা: একটি নির্মম বাস্তবতা

বাংলাদেশে প্রতিভাবান তরুণ গবেষক, প্রযুক্তিপ্রেমী ও বিজ্ঞানীদের অভাব নেই। তাঁরা নিজেদের মেধা ও সীমিত সম্পদ দিয়ে রোবোটিক্স, কৃষি প্রযুক্তি, এআই বা পরিবেশবান্ধব বিকল্পের মতো অসংখ্য অসাধারণ জিনিস উদ্ভাবন করেছেন। কিন্তু এই উদ্ভাবনগুলোর সিংহভাগই শেষ পর্যন্ত গবেষণাগার বা প্রোটোটাইপ (খসড়া কাঠামো) হিসেবেই থমকে থাকে। বাজারে পণ্য হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে না। একটি উজ্জ্বল ধারণা বা “ব্রাইট আইডিয়া” অর্থায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং সঠিক নির্দেশনার অভাবে অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যায়। ২০২৬ সালের বৈশ্বিক উদ্ভাবন সূচকে ১৩৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৫তম, যা আমাদের এই দুর্বল ভিত্তিকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে।

মেধা কেন বাজারে পৌঁছাতে ব্যর্থ হচ্ছে? এর কারণগুলো হয়তো এরকম: ল্যাব-টু-মার্কেট (গবেষণাগার থেকে বাজার) লিংকের অভাব, টেকনোলজি ট্রান্সফার অফিসের অকার্যকারিতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও অর্থায়নের অভাব এবং পরীক্ষাগার ও আধুনিক টেস্টিং সুবিধার ঘাটতি।

উদ্ভাবক ও বিজ্ঞানীদের বিষয়ে সরকার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের করণীয়

মেজর মিল্লাতের সঙ্গে তাঁর বিভিন্ন প্রকল্পের সফলতা ও ব্যর্থতা নিয়ে মাঝে মধ্যে কথা হতো। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে একসময় “ডিফেন্স সায়েন্স অর্গানাইজেশন” (ডিএসও) নামে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ছিল। এ নিয়েও আমরা আলোচনা করতাম ভগ্নহৃদয়ে। একবার তাঁর সঙ্গে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবন ও বাজারে রূপান্তরের সমস্যা এবং এক্ষেত্রে সরকারের করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।

মিল্লাত ভাবতেন, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে কেবল আমদানিকারক বা ব্যবহারকারী থেকে একটি প্রযুক্তি উৎপাদনকারী দেশে রূপান্তর করতে সরকারের কিছু পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এক্ষেত্রে তাঁর সুপারিশ ছিল: (১) রেগুলেটরি স্যান্ডবক্স ও নীতি সহায়তা, (২) বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প খাত মেলবন্ধন, (৩) ঝুঁকি তহবিলের সহজলভ্যতা, (৪) আইপি (পেটেন্ট) সুরক্ষা সহজীকরণ, এবং (৫) সার্টিফাইড টেস্টিং ল্যাব স্থাপন। আশা করি, বর্তমান সরকারপক্ষ এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

বন্ধুর জন্য একটি দীর্ঘ মোনাজাত

১৯ অক্টোবর দুপুর ২:৩০ মিনিটে বনানী সামরিক কবরস্থানে মেজর মিল্লাতের দাফন সম্পন্ন হয়। দাফন কার্যক্রমে অনুষ্ঠিত হয় মিরপুর সেনানিবাসের ৫ এডি রেজিমেন্টের ব্যবস্থাপনায়। উল্লেখ্য, মেজর মিল্লাত একসময় এই ঐতিহ্যবাহী ইউনিটের “ব্যাটারি কমান্ডার” ছিলেন।

হেমন্তের কোমল রোদের দুপুর। বনানী সামরিক কবরস্থানে অন্যদের সঙ্গে আমরা অর্থাৎ ১২ লং কোর্সের একদল সেনা কর্মকর্তা আমাদের প্রিয় বন্ধু মিল্লাতের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে। দাফন কার্যক্রম শেষে মোনাজাত ও দোয়া পর্ব। আমাদের কোর্সের বিশিষ্ট উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ী মেজর মোজাফ্ফর হোসেন খান (অব.) প্রিয় বন্ধুর জন্য নিজেই মোনাজাত শুরু করলেন। কী অসাধারণ সেই মোনাজাত! অদ্ভুত আধ্যাত্মিকতাময় এ মোনাজাতে উচ্চারিত হয়—আল্লাহর কাছে মরহুম মিল্লাতের ক্ষমা ও মুক্তির জন্য দোয়া, পরম করুণাময়-এর কাছে আবেগময় আত্মসমর্পণ, তাঁকে কবুল করার আন্তরিক আকুতি...। একই সঙ্গে এটি পরিণত হয় বিষাদময় এক শোকগাথায়। বন্ধুদের চোখে নামে অশ্রুধারা। হেমন্তের দুপুরেই যেন আকাশ থেকে নেমে আসে ভোরের শিশির।

কেউ হয়তো স্বপ্নের বাস্তবায়ন করবেন—বিদায় আইনস্টাইন

এখন ঢাকায় নবীন হেমন্ত—মিল্লাতের প্রিয় ঋতু। মিল্লাত একসময় সুন্দর ছবি আঁকতেন। অফিসার্স মেসে মিল্লাতের রুমে তাঁর আঁকা হেমন্তের ছবি দেখেছিলাম। এই হেমন্তেই মিল্লাত চলে গেলেন জীবনের ওপারে।

পড়ে রইল মেজর মিল্লাতের সাধের ল্যাবরেটরি, ওয়ার্কশপ। সৌর এনার্জিসহ স্বপ্নের অনেক প্রকল্প। অসমাপ্ত কিছু পাণ্ডুলিপি। রেখে গেলেন সংসার ও প্রিয়জন। তবুও আশা রইল—ভবিষ্যতে হয়তো কোনো এক সাহসী স্বপ্নবাজ বা একদল তরুণ এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন করবেন। বিদায় আমাদের আইনস্টাইন...

পরম করুণাময় আল্লাহ তাঁকে বেহেশত নসিব করুন...