সূর্যবংশী ফ্লপ, ভারতকে জেতালেন তিলক-রেড্ডি

২০২৬ এশিয়ান গেমসের পর আবার যখন জাতীয় দলের একাদশে ঢুকলেন, তখন ১৫ বছর বয়সী বৈভব সূর্যবংশীকে ঘিরে ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালের গ্যালারিতে উন্মাদনার অভাব ছিল না। চোটের কারণে ঈশান কিষাণ ছিটকে যাওয়ায় ড্রেসিংরুম থেকে ৩ নম্বরে নামার সুযোগ পান এই তরুণ ব্যাটিং বিস্ময়। 

তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পর তার ফেরার ম্যাচটি আক্ষরিক অর্থেই রূপ নিল চরম হতাশায়। মাত্র ৪ রান (৮ বল) করে যখন নেথান স্মিথের অফ-স্টাম্পের বাইরের গুড-লেংথ বলে কভার ফিল্ডার ড্যারিল মিচেলের হাতে ক্যাচ দিলেন, তখন ভারতের ড্রেসিংরুমে বিষাদের ছায়া। কিন্তু তরুণ সূর্যবংশীর এই ব্যর্থতা আর টপ-অর্ডারের তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ার দিনেও শেষ হাসি হেসেছে ভারতই! তিলক ভার্মা ও নিতিশ কুমার রেড্ডির ষষ্ঠ উইকেটে অপরাজিত ৬৯ রানের অবিচল জুটিতে ভর করে ১ বল বাকি থাকতে নিউজিল্যান্ডকে ৪ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত।

১৮১ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতের শুরুটা একেবারেই ভালো ছিল না। মাঠে শিশিরের সুবিধা নিয়ে রান তাড়ার পথ সহজ হবে ভেবে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ভারত অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। তবে কিউই বোলিং আক্রমণের তাণ্ডবে মুহূর্তের মধ্যেই খাদের কিনারায় পৌঁছায় সফরকারীরা। সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মার পর বৈভব সূর্যবংশী, অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার ও অক্ষর প্যাটেল ছিটকে গেলে ১১ ওভারে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় মাত্র ৭০ রানে ৫ উইকেট!

ক্রাইস্টচার্চে কিউই অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার ও জ্যাকব ডাফিদের টানা নিখুঁত বোলিংয়ে ম্যাচ যখন নিউজিল্যান্ডের হাতের মুঠোয়, ঠিক তখনই ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন তিলক বর্মা ও নিতিশ কুমার রেড্ডি। 

৭০ রানেই অর্ধেক দল সাজঘরে পাড়ি জমানোর পর তিলককে নিয়ে চাপ সামলে নেওয়ার অর্ধেকটা করেছিলেন আগের ম্যাচে দলের হয়ে রেকর্ড লক্ষ্য তাড়া করে জেতা জয়ের নায়ক নামন ধীর। তবে দলীয় ১১২ রানের মাথায় নামন ১৭ বলে ৩১ রান করে ফিরলে রেড্ডিকে নিয়ে বাকি পথ সামলে নেন তিলক। অবশ্য সেখান থেকে লক্ষ্যটা ছিল বেশ কঠিন। কেবল ৫ ওভারে করতে হতো ৬৯ রান। ৩ ওভারে বাকি থাকতে সেটি ছিল ৪৬ রানে। ক্রিজে ব্যাটার বলতে ছিলেন তারাই। সেই কাজটাই করে দেখালেন তিলক ও রেড্ডি। ২৬ বলে ৫১ রানের ঝোড়ো এক ইনিংস খেলেন তিলক আর তাকে সঙ্গ দিয়ে রেড্ডি করেন ১৩ বলে ২৬। এতে ১ বল আগেই জয়ের দুয়ারে পৌঁছে যায়। কিউইদের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন অধিনায়ক স্যান্টনার।

এদিক এর আগে প্রিন্স যাদবের গতি আর আর্শদীপ সিংদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের পরও ৫ উইকেটে ১৮০ রানে বড় সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছিল স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড। সেখানে সর্বোচ্চ ৭০ রান করেন গ্লেন ফিলিপস আর ৫৮ রান করেন জেকবস।