প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরের প্রাক্কালে টোকিওতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলীকে সদর দপ্তরে ডেকে পাঠানোর সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণভাবে মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ ও স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বলে অভিহিত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর টোকিও সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী। সফরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই রাষ্ট্রদূতকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানীর তোপখানা রোডের সিরডাপ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। তুরস্কের আন্তালিয়ায় আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন (কপ-৩১) সামনে রেখে দেশের ৩৩টি নাগরিক সমাজ ও উন্নয়ন সংস্থার যৌথ উদ্যোগে একটি জাতীয় অবস্থানপত্র প্রকাশ ও জাতীয় সংলাপের আয়োজন করা হয়। সেই অনুষ্ঠান শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন শামা ওবায়েদ।
রাষ্ট্রদূতকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো রাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে কখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে পাঠানো হবে, সেটি মন্ত্রণালয়ের একান্ত নিজস্ব সিদ্ধান্ত। এটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়, জাতীয় বা আন্তর্জাতিক কোনো বিষয় নয়। এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।’ ফলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এবারের গুরুত্বপূর্ণ জাপান সফরে থাকছেন না টোকিওতে নিযুক্ত তৎকালীন রাষ্ট্রদূত।
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য ও উন্নয়ন অংশীদার জাপান। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই দুদেশের মধ্যে গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে, যা বর্তমান সরকারের আমলে আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
এই সফরের মাধ্যমে দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি খাত, আধুনিক প্রযুক্তি, তৈরি পোশাক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে নতুন সহযোগিতার দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে ‘বাংলাদেশ ইনভেস্ট’-এর মাধ্যমে জাপানি বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরি এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে এই সফর অত্যন্ত সফল হবে বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে সিরডাপ মিলনায়তনের ওই জাতীয় সংলাপে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও আসন্ন কপ-৩১ সম্মেলন নিয়ে বাংলাদেশের প্রস্তুতি ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তিনি স্পষ্ট জানান যে, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় কেবল আর্থিক তহবিলের জন্য দর-কষাকষি করলেই চলবে না, বরং গুণগত পরিবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নেতৃত্বের অবস্থানে নিয়ে যেতে হবে। উন্নত দেশগুলোকে তাদের আর্থিক প্রতিশ্রুতির পূর্ণ বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই সহায়তা ঋণ হিসেবে নয়, বরং অনুদান হিসেবে আসা উচিত, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত ঋণের বোঝা না চাপে।
শামা ওবায়েদ আরও জানান, কপ-৩১ সম্মেলনে কার্বন নিঃসরণ কমানো ও জ্বালানি রূপান্তরের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের বৈশ্বিক সম্ভাবনা অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরতে চায় বাংলাদেশ। বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং অভিযোজন ও প্রশমন—উভয় ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় নেগোসিয়েশন টেবিলে দেশের একটি ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠস্বর তুলে ধরতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় যৌথভাবে আন্তঃমন্ত্রণালয় ফোকাল টিম গঠন করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।