কক্সবাজারে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চান পর্যটন ব্যবসায়ীরা

নিরাপদ পর্যটন নগরী গড়ে তুলতে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালু, প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) আইন সংশোধন এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ছয় মাস সময় চেয়েছেন কক্সবাজারের পর্যটন ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালুর সম্ভাবনা যাচাইয়ে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

গত এক সপ্তাহে আগুনে পুড়ে ও পানিতে ডুবে ১৫ পর্যটকের প্রাণহানির ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার কক্সবাজার শহরের পাবলিক লাইব্রেরি হল মিলনায়তনে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করে জেলা প্রশাসন। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান।

সভায় হোটেল-রিসোর্ট মালিক ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিতে অন্তত ১৭টি সরকারি দপ্তরে যেতে হয়। এতে সময়ক্ষেপণের পাশাপাশি নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয় তাঁদের। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সব ধরনের সেবা এক জায়গা থেকে পাওয়ার ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান তাঁরা।

কক্সবাজার হোটেল-রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, কক্সবাজারকে নিরাপদ পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দুটি বড় প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এর একটি প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) আইন, অন্যটি বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে অনুমোদন নেওয়ার জটিলতা।

তিনি বলেন, ইসিএ আইনের কারণে সৈকতসংলগ্ন এলাকায় পরিবেশ ছাড়পত্র পাওয়া যায় না। ফলে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) অনুমোদন পেতেও সমস্যা হয়।

সভায় অধিকাংশ ব্যবসায়ী ইসিএ আইন সংশোধনের পাশাপাশি ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালুর দাবি জানান। একই সঙ্গে অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা স্থাপন ও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র সংগ্রহের জন্য ছয় মাস সময় চান তাঁরা।

কউকের সচিব সানজিদা বেগম বলেন, অধিকাংশ হোটেলে অগ্নিনির্বাপণের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষিত লোকবল না থাকায় দুর্ঘটনা ঘটছে। তিনি হোটেল-রিসোর্ট মালিকদের কউকের আইন, নীতিমালা ও নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান।

পর্যটন ব্যবসায়ী ও হোটেল-রিসোর্ট মালিকদের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, নিরাপদ পর্যটন নগরী গড়ে তুলতে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালুর বিকল্প নেই। এটি চালু হলে সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা সহজেই প্রয়োজনীয় সেবা পাবেন। পর্যটনের প্রসারে ইসিএ আইন শিথিল করার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

সভায় সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্না সম্প্রতি কুমিল্লায় তাজমিন হত্যার প্রসঙ্গ তুলে ধরে হোটেল-রিসোর্টে অপ্রাপ্তবয়স্কদের এবং জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে কক্ষ ভাড়া না দেওয়ার অনুরোধ জানান। পাশাপাশি অবৈধ স্থাপনা ও নিয়মবহির্ভূতভাবে নির্মিত হোটেল-রিসোর্টগুলোকে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়ে নিয়মের আওতায় আনার পরামর্শ দেন তিনি।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার তাজমিন হত্যার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, একটি মহল কক্সবাজারকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে। তাদের উদ্দেশ্য পর্যটকদের কক্সবাজারে আসতে নিরুৎসাহিত করে অন্য গন্তব্যে নিয়ে যাওয়া। এ কারণে কুমিল্লার হত্যার ঘটনাটিও ওই মহল কক্সবাজারের সঙ্গে জড়িয়ে প্রচার করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সভায় হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ খাতের চার শতাধিক অংশীজন অংশ নেন বলে জানান জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান। তিনি বলেন, ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার কীভাবে চালু করা যায়, তা নির্ধারণে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। কমিটিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি সংস্থার প্রতিনিধি থাকবেন। তাঁদের সুপারিশ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ছয় মাস সময় চেয়েছেন উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক আরও বলেন, চলতি সপ্তাহ থেকেই যেসব হোটেল-রিসোর্টের ন্যূনতম অনুমোদন নেই, সেসব প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।