শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে মিলল ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকা

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা ৫ম বারের মতো প্রকাশ্যে গণনা হয়েছে। এতে ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ টাকা পাওয় গেছে। দিনভর টাকা গণনা শেষে রাতে টাকার হিসেবে ঘোষণা করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন। টাকা ছাড়াও সোনা, রূপা ও ১৮টি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে দানবাক্সে।

দানবাক্সে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে ৭ হাজার ৬৪৭ ভারতীয় রুপি, ১৩.৫০ ওমানি রিয়াল, ৯৩ সৌদি রিয়াল, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৬৫ দিরহাম, ১৭ কাতারি রিয়াল, ১০০ বাহরাইনি দিনার, ১৪ ব্রিটিশ পাউন্ড, ২৯ মার্কিন ডলার, ৭ ইউরো ৩৩ সেন্ট।

এছাড়া ১১ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, ২০ থাই বাত, ১৫ মালদ্বীপের রুপিয়া, ১০ হংকং ডলার, ১ ব্রুনাই ডলার, ৫৫ নেপালি রুপি, ১০০ পাকিস্তানি রুপি, ৫০ রুবল এবং ৫০০ শ্রীলঙ্কান রুপি পাওয়া গেছে।


এদিকে, দান হিসেবে পাওয়া ৭টি গরুর মধ্যে ৪টি লঙ্গরখানায় জবাই করা হয় এবং বাকি ৩টি খাদিমদের দেওয়া হয়। অন্যদিকে, ৩১০টি ছাগলের মধ্যে ২১০টি লঙ্গরখানায় এবং ২৭টি শিন্নির জন্য জবাই করা হয়। বাকি ৪৮টি ছাগল খাদিমদের দেওয়া হয়।

এর আগে আরও চার দফা মাজারের টাকা প্রকেশ্যে গণনা করা হয়। গত ২২ জুন প্রথম দফায় পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। পরে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকার চেক যুক্ত হলে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। 

এরপর ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। পরের ধাপে ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় গণনায় পাওয়া যায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা। আর গত ১৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ দফায় দানবাক্স ও ডেগ থেকে পাওয়া ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা গণনা।

এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে গঠিত কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়, শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা এখন থেকে প্রতিদিন গণনা করা হবে। দানের টাকার ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়ন কাজের জন্য সোনালী ব্যাংকের একটি হিসাবে জমা রাখা হবে। আর বাকি ৬৫ শতাংশ দিয়ে মাজারের দৈনন্দিন খরচ ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়া হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সভা শেষে সেদিন এসব তথ্য জানান সদস্যসচিব ও সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন।

এছাড়া মাজার পরিচালনার জন্য সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। এটি মাজারের নিরাপত্তা, উন্নয়নসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। জেলা প্রশাসক থাকবেন এই কমিটির আহ্বায়ক।

কমিটিতে সিলেট সিটি করপোরেশন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিলেট মহানগর পুলিশ, সিলেট জেলা পরিষদ ও পুলিশ সুপারের একজন করে প্রতিনিধি থাকবেন। মাজারের মোতোয়াল্লি সদস্যসচিব থাকবেন। নিয়োগ দেওয়া ব্যবস্থাপক কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবেন।

মাজারের দানবাক্সের টাকা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্কের পর চলতি বছরের ২৩ জুন আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

তবে শনিবার টাকা গণনা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে জেলা প্রশাসক বলেন, আজ শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে পাওয়া টাকা আগের মতোই ব্যাংক একাউন্টে রাখা হবে। এখান থেকে বিদ্যুৎ বিলসহ কিছু ইউটিলিটি বিল দেওয়া হবে। আনসারের বেতন দেওয়া হবে। আমরা ৩ জন লোক নিয়োগ দেব: ম্যানেজার, অ্যাকাউনট্যান্ট ও কম্পিউটার অপারেটর। তখন টাকার ৬৫ শতাংশ দিয়ে মাজারের দৈনন্দিন খরচ ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতায় ব্যয় করা হবে।