বিশ্বের শীর্ষ ধনী অভিনেত্রীরা

হলিউড মানেই অন্তহীন গ্ল্যামার, রঙিন আলো আর আকাশচুম্বী আয়-রোজগার। সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে অভিনেত্রীরা তাদের অসাধারণ অভিনয় প্রতিভা, মেধা এবং ব্যবসায়িক দূরদর্শিতায় গড়ে তুলেছেন বিশাল বিত্তবৈভবের সাম্রাজ্য। বক্স অফিসের বাম্পার হিট সিনেমার পারিশ্রমিক ছাড়াও বিজ্ঞাপনের লোভনীয় চুক্তি, নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এবং বিচক্ষণ বিনিয়োগ করে অনেক অভিনেত্রী আজ বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। বিনোদন দুনিয়ার সবচেয়ে ধনী অভিনেত্রীদের নিয়েই এ আয়োজন। লিখেছেন নুসরাত জায়দী পুনমজেমি গার্টজ

সিনেমায় বড় ধরনের বাণিজ্যিক সাফল্য না পেলেও সফল ব্যবসায়ী হিসেবে বর্তমানে বিশে^র সবচেয়ে ধনী অভিনেত্রীর মুকুট পরে আছেন আমেরিকান অভিনেত্রী জেমি গার্টজ। ১৯৮০-এর দশকে ‘দ্য লস্ট বয়েজ’ কিংবা ‘লেস দ্যান জিরো’-এর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেত্রীর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিনিয়োগকারী ও ক্রীড়া দলের মালিক টনি রেসলারকে বিয়ে করার পর এবং ব্যবসায়িক বিনিয়োগের ফলে তার সম্পদ আকাশচুম্বী পর্যায়ে পৌঁছে যায়।

অপরাহ উইনফ্রে

বিশ্বজুড়ে প্রভাবশালী টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবে পরিচিত হলেও অপরাহ উইনফ্রে একই সঙ্গে একজন অস্কার-মনোনীত অভিনেত্রী। ‘দ্য কালার পার্পল’ ও ‘সেলমা’-এর মতো চলচ্চিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করে ৭১ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী অভিনয় দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। মিডিয়া সাম্রাজ্য, নিজস্ব টিভি নেটওয়ার্ক এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক সফল বিনিয়োগ মিলিয়ে তার আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩ থেকে ৪ বিলিয়ন ডলার।

সেলেনা গোমেজ

টেলিভিশন ও অভিনয়ের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে সংগীতশিল্পী হিসেবে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করা সেলেনা গোমেজ বিনোদন দুনিয়ার অন্যতম ধনী তারকা। মাত্র ৩৩ বছর বয়সেই বিশাল সম্পদের মালিক এই অভিনেত্রী। তার সম্পদের বড় একটি অংশ এসেছে নিজস্ব মেকআপ ব্র্যান্ড ‘রেয়ার বিউটি’ এবং বিভিন্ন সফল প্রজেক্ট থেকে, যার মোট পরিমাণ প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার।

জেনিফার লোপেজ

নব্বই দশক থেকে হলিউড মাতাচ্ছেন এই পপ সেনসেশন ও অভিনেত্রী। গানের মঞ্চ ও সিনেমার পর্দা দুটিতেই সমান সফল জেলো তার ক্যারিয়ারে উপার্জন করেছেন প্রচুর অর্থ। তার বহুমুখী পেশাদার ক্যারিয়ার এবং গ্ল্যামার দুনিয়ায় তার স্বতন্ত্র অবস্থানের সুবাদে তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

ঝাও ওয়েই

বিশ্বের শীর্ষ অন্যতম ধনী অভিনেত্রী ঝাও ওয়েই চীনা সিনেমার অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। তিনি অসংখ্য জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন; পাশাপাশি তিনি একজন সফল গায়িকাও। তিনি অত্যন্ত লাভজনক চলচ্চিত্র কোম্পানি ‘আলিবাবা পিকচার্স’-এর দ্বিতীয় বৃহত্তম শেয়ারহোল্ডার। বর্তমানে তার সম্পদের পরিমাণ ৫০০ মিলিয়ন ডলার।

রিস উইদারস্পুন

‘লিগ্যালি ব্লন্ড’ ও ‘ওয়াক দ্য লাইন’ খ্যাত অস্কারজয়ী অভিনেত্রী রিস উইদারস্পুন অভিনয়ের পাশাপাশি একজন সফল প্রযোজক। ২০২১ সালে ফোর্বস তাকে বিশ্বের সর্বোচ্চ উপার্জনকারী অভিনেত্রী হিসেবেও ঘোষণা করেছিল। নিজের প্রোডাকশন হাউজের সুবাদে এবং ব্যবসায়িক বুদ্ধিমত্তার জোরে তার মোট সম্পদ ছাড়িয়ে গেছে ৪০০ থেকে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার।

জেনিফার অ্যানিস্টোন

হলিউডের জনপ্রিয় সিটকম ‘ফ্রেন্ডস’ দিয়ে বিশ্বজুড়ে কোটি দর্শকের হৃদয় জয় করা জেনিফার অ্যানিস্টোন অর্ধশতাধিক সফল সিনেমায় অভিনয় করেছেন। সিনেমা এবং ব্র্যান্ড এন্ডোর্সমেন্ট থেকে নিয়মিত বড় অংকের আয় করা এই অভিনেত্রীর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩২০ মিলিয়ন ডলার।

সান্দ্রা বুলক

নব্বইয়ের দশকের ‘স্পিড’ বা পরবর্তী সময় ‘গ্র্যাভিটি’ ও ‘দ্য ব্লাইন্ড সাইড’-এর মতো অস্কারজয়ী সিনেমার সুবাদে দীর্ঘদিন হলিউডের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেত্রীদের শীর্ষে ছিলেন সান্দ্রা বুলক। আমেরিকান-জার্মান এই গুণী অভিনেত্রী ও প্রযোজকের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার।

জুলিয়া রবার্টস

হলিউডের কালজয়ী তারকা এবং ‘আমেরিকাস সুইটহার্ট’ হিসেবে পরিচিত জুলিয়া রবার্টস প্রথম অভিনেত্রী হিসেবে এক সিনেমাতেই ২০ মিলিয়ন ডলার পারিশ্রমিক নেওয়ার ইতিহাস গড়েছিলেন। বক্স অফিস কাঁপানো এই অভিনেত্রীর বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি।

জেসিকা অ্যালবা

‘ফ্যান্টাস্টিক ফোর’ ও ‘ডার্ক অ্যাঞ্জেল’-এর মতো ব্লকবাস্টার সিনেমার জনপ্রিয় মুখ জেসিকা অ্যালবা অভিনয় জগতের পাশাপাশি একজন অত্যন্ত সফল উদ্যোক্তা। নিজস্ব ইকো-ফ্রেন্ডলি ব্র্যান্ডের কল্যাণে ব্যবসা সফল এই অভিনেত্রীর বর্তমান সম্পদ প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলার।