১ হাজার কোটি টাকার গ্রিন বন্ড ছাড়ছে ব্র্যাক ব্যাংক

বাংলাদেশের ‘প্রথম ব্যাংক’ হিসেবে ১ হাজার কোটি টাকার গ্রিন বন্ড ছাড়তে যাচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক। আজ রবিবার রাজধানীর প্যান-প্যাসিফিক সোনারগাঁও ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক রেফাত উল্লাহ খান আনুষ্ঠানিকভাবে এই উদ্যোগের ঘোষণা দেবেন।

ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রিন বন্ড নীতিমালা মেনেই এটি ছাড়া হবে। এই বন্ডের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ব্যয় করা হবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প, পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণ এবং শিল্প খাতে জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধির নানা উদ্যোগে। গ্রিন বন্ড মূলত এমন একটি আর্থিক মাধ্যম, যার মাধ্যমে পরিবেশগতভাবে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব প্রকল্পের জন্য তহবিল সংগ্রহ করা হয় এবং একই সঙ্গে এটি বিনিয়োগকারীদের নিয়মিত আয়ের নিশ্চয়তা দেয়।

গত ২৩ মে প্রকাশিত এক ডিসক্লোজারে জানানো হয়, ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি তাদের পরিবেশবান্ধব অর্থায়ন কার্যক্রমে সহায়তার জন্য অভিহিত মূল্যে (ফেস ভ্যালু) সর্বোচ্চ ১ হাজার কোটি টাকার গ্রিন বন্ড ছাড়ার পরিকল্পনা করেছে।

এর দুদিন আগে অনুষ্ঠিত ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই বন্ড ছাড়ার বিষয়টি অনুমোদন পায়। তথ্যানুযায়ী, তিন বছর মেয়াদি এই বন্ডটি হবে রূপান্তর-অযোগ্য (নন-কনভার্টেবল) এবং মেয়াদ শেষে সম্পূর্ণ পরিশোধযোগ্য (ফুললি রিডিমেবল)। নিজেদের ওয়েবসাইটের তথ্যানুযায়ী, পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন প্রকল্পে বিশেষ অর্থায়ন সুবিধা দিয়ে থাকে ব্র্যাক ব্যাংক। এর মধ্যে রয়েছে সৌর ও বায়ুশক্তির মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি উদ্যোগ, জ্বালানিসাশ্রয়ী প্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ এবং ইটিপি (বর্জ্য শোধনাগার) সুবিধার মাধ্যমে দায়িত্বশীল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।

এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশের প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে ১ হাজার কোটি টাকার একটি ‘সোশ্যাল বন্ড’ ছাড়ার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পেয়েছিল ব্যাংকটি। সেই বন্ড থেকে পাওয়া অর্থ ব্যাসেল-৩ কাঠামোর অধীনে ব্যাংকের টায়ার-২ মূলধন শক্তিশালী করতে এবং সামাজিক উন্নয়নে ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।