নাগোয়ায় পদক আসেনি হবে কাতারের দোহায়

এশিয়ার ৪৫টি দেশের প্রায় তিন হাজার প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদের অংশগ্রহণে এশিয়ান প্যারা গেমসের যে লড়াই শুরু হয়েছিল ১৮ অক্টোবর, তার যবনিকাপাত ঘটল শনিবার। সাতদিনের এই পদক জয়ের লড়াইয়ে সেরার তকমা জিতেছে চীন। এশীয় মহাদেশের গেমসে বরাবরের মতো চীনই সেরার তকমা জিতে নিয়েছে। তারা ২০৫টি স্বর্ণ, ১১৬টি রৌপ্য ও ১১০টি ব্রোঞ্জ জেতে। ৬৩টি স্বর্ণ, ৬০টি রৌপ্য ও ৬২টি ব্রোঞ্জ জিতে রানার্সআপ আয়োজক জাপান।

প্রতিবন্ধীদের এই পদকজয়ের ধুন্ধুমার ময়দানি যুদ্ধে বাংলাদেশও অংশ নিয়েছিল ক্ষুদ্র দল নিয়ে। কিন্তু পূর্ব অভিজ্ঞতা আর দীর্ঘমেয়াদি অনুশীলনের অভাবে অন্যদের সঙ্গে ধোপে টিকতে পারেননি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। বরং বলা ভালো, পদক জিততে পারেননি। যেমন খুব কাছে গিয়েও পদকবঞ্চিত হতে হয়েছে অ্যাথলেট সেলিম রেজাকে। শূন্য দশমিক শূন্য তিন সেন্টিমিটারের জন্য পদক জিততে পারেননি তিনি। নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি এশিয়ান ইয়ুথ গেমসে স্বর্ণজয়ী অ্যাথলেট চৈতী রানী দেব। সাঁতারু শহিদুল্লাহ ইয়ুথ গেমসে পদক জিতলেও সিনিয়র এই গেমসে আসতে পারেননি। তবে নাগোয়ার পুলে পদ্মফুলের মতো প্রস্ফুটিত হতে পারেননি তারই অগ্রজ পল্লব কর্মকার।

এশিয়ান প্যারা গেমসে ফুল ফেসে অংশ নেওয়া এবারই প্রথম বাংলাদেশের। এবারের আসরে বাংলাদেশ ছয়টি ডিসিপ্লিনে অংশ নিয়েছিল। অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, বোচিয়া ও আর্চারি। এত বড় আসরে প্রথম অংশগ্রহণ বলে লাল-সবুজের ছেলে-মেয়েরা নিজেদের পুরোপুরি মেলে ধরতে পারেনি। যেমন অ্যাথলেট কোচ আল আমিন বলেন, ‘গেমস অনেক বড় বিষয় আমাদের ছেলে-মেয়েদের জন্য। প্রায় অর্ধশতাধিক দেশের হাজার হাজার ক্রীড়াবিদ ও সমর্থকদের সামনে সবাই সাহস করে উঠতে পারে না। নিজেকে উজাড় করে খেলতে পারে না কেউ কেউ। তবে আমাদের ছেলে-মেয়েরা অনেক চেষ্টা করেছে, পারেনি। ভবিষ্যতে এসব জড়তা কাটিয়ে উঠে তারা ভালো করবে বলে আমার বিশ্বাস।’

নাগোয়াতে না পারলেও দোহায় পদক জয়ে পাখির চোখ করছেন ন্যাশনাল প্যারালিম্পিক কমিটি অব বাংলাদেশের (এনপিসি) মহাসচিব ড. মারুফ আহমেদ মৃদুল। তার কথা, ‘দেশে প্যারা ক্রীড়াবিদের প্ল্যাটফরম থাকলেও বড় আসরে অংশগ্রহণ তেমন ছিল না। সেটা এখন তারা পাচ্ছে। মাত্র দেড় থেকে দুই মাস অনুশীলনেই এশিয়ান প্যারা গেমসের মতো বড় আসরে এসে খেলেছে তারা। প্রথম বলেই হয়তো তাদের মধ্যে কিছুটা জড়তা কাজ করেছে। তবে আমার বিশ^াস ২০৩০ সালে দোহাতে পরের আসরে এরাই আমাদের জন্য পদক এনে দেবে।’ তিনি যোগ করেন, ‘দোহায় পদক জয়ের লক্ষ্য নিয়ে আমরা ইতিমধ্যে বেশ কিছু কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। যেমন বিভিন্ন উন্নত দেশের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি করেছি উন্নত প্রশিক্ষণ পাওয়ার জন্য। দক্ষিণ এশিয়ার সাত দেশের অংশগ্রহণে প্যারা গেমস আয়োজনের নীতিগত সিদ্ধান্তও হয়েছে।’