মামলার বাদীকে হুমকি

‘সবার আগে তোর লাশ পড়ে থাকবে’

রাজধানীর হাজারীবাগে এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয়-গুদামে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় করা মামলার বাদীকে মুঠোফোনে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। বাদীকে বলা হয়েছে, শনিবারের মধ্যে সমঝোতার মধ্যে ঝামেলা শেষ করতে বল, না করলে তার ‘লাশ পড়ে থাকবে’। গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে মামলার বাদী কুরিয়ার সার্ভিসটির ব্যবস্থাপক আফসার উদ্দিনকে ফোন করে এ হুমকি দেওয়া হয়।

গতকাল বাদী আফসার উদ্দিন বলেন, ‘গত শুক্রবার রাতে অপরিচিত একটি নম্বর থেকে আমাকে ফোন দিয়ে মামলার বিষয়টি নিয়ে সমঝোতা করতে বলা হয়। তা না হলে আমাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। আমি পুলিশ ও আমার প্রতিষ্ঠানকে বিষয়টি জানিয়েছি। প্রতিষ্ঠান থেকে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ বাদীর সঙ্গে হুমকিদাতার কথোপকথনের অডিওতে শোনা যায়, হুমকিদাতা সালাম দিয়ে আফসারকে বলছেন, ‘ভাই মামলার বাদী যে হলেন আপনার নিজের মামলার বাদী কে হবেন?’

এ সময় বাদী বলেন, ‘কোনটা ভাই?’  জবাবে হুমকিদাতা বলেন, ‘কোনটা আপনি বোঝেন না?’ এরপর ওই ব্যক্তি অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেন। তিনি বাদীকে বলেন, ‘কালকের (শনিবার) মধ্যে যোগাযোগ করার ব্যবস্থা করা না হলে লাশ পড়ে থাকবে।’ পরে বাদী এই ব্যক্তির পরিচয় জানতে চান। জবাবে হুমকিদাতা বলেন, ‘তোর বাপ বলছি।’ এ কথা বলে তিনি আবার গালাগাল করেন। এ সময় বাদী নিজে এই প্রতিষ্ঠানের মালিক নন বলে জানান। তখন মুঠোফোনের অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘মালিক না তো বাদী হইছোস কেমনে?’

হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন বলেন, তিনি বাদীর সঙ্গে কথা বলেছেন। বাদীর সঙ্গে হুমকিদাতার কথোপকথনের অডিও তাকে (ওসি) পাঠানো হয়েছে। অডিওটি যাচাই করা হচ্ছে। এ বিষয়টিকেও মামলার তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে। হুমকির বিষয়ে জানতে মামলার বাদী আফসারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর হুমকি দেওয়া ব্যক্তিকে কল করা হলে ফোন কেটে দেয়।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ‘এখন থেকে জমির ভাড়া শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনকে দিতে হবে এই কথা বলে হাজারীবাগে এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের গুদাম ও কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট চালানো হয়। ভাঙচুর শেষে কয়েক লাখ টাকার পণ্য ও সিসিটিভি ক্যামেরা খুলে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের ভাষ্য, হামলাকারীরা নিজেদের শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের লোক পরিচয় দিয়ে হামলা চালায়। প্রতিষ্ঠানটি দুই বছর আগে শিকদার গ্রুপের কাছ থেকে চুক্তির মাধ্যমে জমিটি ভাড়া নেয়। তবে এখন থেকে জমির ভাড়া ইমনকে দেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে। হামলার ঘটনায় করা মামলায় এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরই মধ্যে গতকাল শনিবার সকালে প্রতিষ্ঠানটির দুটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে বলে জানান আফসার উদ্দিন।