শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে মিলল ৮৮ লাখ টাকা

সিলেটে হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজারের তিনটি বড় ডেগ ও পাঁচটি দানবাক্সে এবার ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ টাকা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি মিলেছে স্বর্ণ-রৌপ্য ও বিদেশি মুদ্রাও। গতকাল শনিবার পঞ্চমবারের মতো প্রকাশ্যে গণনা শেষে সন্ধ্যায় সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন এই তথ্য জানিয়েছেন।

জেলা প্রশাসক জানান, নগদ অর্থের পাশাপাশি পাওয়া গেছে ১ ভরি সাড়ে ৮ আনা স্বর্ণ ও ৩ ভরি ১৩ আনা রৌপ্য। বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে ১৪ ব্রিটিশ পাউন্ড, ৭ হাজার ৬৪৭ ভারতীয় রুপি, ২০ থাই বাত, ৯৩ সৌদি রিয়াল ও পয়সা, ১১ মালয়েশীয় রিঙ্গিত, ২৯ মার্কিন ডলার, ১ হাজার ৩৫০ দশমিক ৫০ ওমানি বায়সা, ৬৫ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম, ১৫ মালদ্বীপের রুপিয়া ও ১৭ কাতারি রিয়াল ও পয়সা, ৭ ইউরো ৩৩ সেন্ট, ১০০ বাহরাইনি পয়সা, ১০ হংকং ডলার, ১ কুয়েতি দিনার, ৫৫ নেপালি রুপি, ১০০ পাকিস্তানি রুপি, ৫০ রুশ রুবল ও ৫০০ শ্রীলঙ্কান রুপি। এ ছাড়াও গত ৩৫ দিনে মাজারে দান হিসেবে পাওয়া ৭টি গরুর মধ্যে ৪টি লঙ্গরখানায় শিরণি করা হয়েছে, বাকি তিনটি খাদিমরা পেয়েছেন। ৩১০টি ছাগলের মধ্যে ২৫টি জবাই করে বিরতণ করা হয়েছে; ২১০টি ছাগল লঙ্গরখানায় খাওয়ানো হয়, ২৭টি ছাগল দিয়ে শিরণি করেছেন ভক্তরা আর ৪৮টি ছাগল খাদিমরা নিয়েছেন।

গতকাল সকাল ১০টায় শুরু হওয়া গণনার সময় ভক্তদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ও আবেদনসংবলিত চিঠিও পাওয়া গেছে। মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে গত ২৩ সেপ্টেম্বর গঠিত কমিটির সভায় দানের টাকা প্রতিদিন গণনার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সে অনুযায়ী টাকা গণনা, হিসাবসংরক্ষণ ও ব্যয়ের জন্য একজন ব্যবস্থাপক, একজন হিসাবরক্ষক এবং একজন অফিস সহকারী নিয়োগ দেওয়ার কথা। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় প্রতিদিন গণনার ব্যবস্থা চালু করা যায়নি। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দানবাক্সের টাকার ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নকাজে ব্যয় করা হবে। জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, শাহজালাল (রহ.)- এর মাজারের দানবাক্সে পাওয়া টাকা আগের মতোই ব্যাংক হিসাবে রাখা হবে।