খুলনা মহানগরীতে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একটি বেসরকারি ক্লিনিক, এক ব্যবসায়ী ও এক যুবদল নেতাকে গুলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপর থেকে রাত পর্যন্ত পৃথক এসব ঘটনায় দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
সবশেষ ঘটনাটি ঘটে শনিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে নগরের বাবুখান রোডে অবস্থিত সন্ধানী ক্লিনিকে। এই ক্লিনিকের নিজস্ব ভবনে হামলা, গুলি ও ভাঙচুরের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটরসাইকেলে করে ৭ থেকে ৮ জন ক্লিনিকের সামনে এসে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এরপর তারা ক্লিনিকের ভেতরে ঢুকে অধ্যাপক ডা. কুতুব উদ্দিন মল্লিকের চেম্বার ও অভ্যর্থনাকক্ষে ভাঙচুর চালায়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
খুলনা মহানগর পুলিশের সদর জোনের সহকারী কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর থেকে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের কাছ থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতাও পাওয়া যাচ্ছে না। ঘটনার তদন্ত চলছে। জড়িত যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
সন্ধ্যা ৭টায় নগরের দক্ষিণ টুটপাড়ার গাছতলা মন্দিরের সামনে দুবৃর্ত্তের গুলিতে ধনঞ্জয় কুন্ডু ওরফে আকাশ কুন্ডু (৪৫) গুরুতর আহত হন। তিনি স্থানীয় গাছতলা মন্দির মোড় এলাকার একজন মুদি ব্যবসায়ী।
স্বজন ও পুলিশ জানায়, একটি মোটরসাইকেলে করে দুই দুর্বৃত্ত দক্ষিণ টুটপাড়ার ২ নম্বর ক্রস রোডের গাছতলা মন্দিরের সামনে আসে। এ সময় তারা ধনঞ্জয় কুন্ডুকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিটি তার পেটে লাগে। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে দুর্বৃত্তরা দ্রুত মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন রিপন জানান, কারা এবং কী কারণে গুলি চালিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।
এ ছাড়া সকাল ১১টার দিকে তেরখাদা উপজেলার পারহাজী গ্রামে দুবৃর্ত্তের গুলিতে মো. রামীম বিশ্বাস (৩২) নামের এক যুবদল নেতা গুরুতর আহত হন। সেনেরবাজার-মধুপুর সড়কের পারহাজীগ্রামে খান ব্রিকসের কাছে আয়নাল মোল্লার বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত রামীম বিশ্বাস পারহাজীগ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমানের ছেলে ও মধুপুর ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি।
তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহমেদ আলী বিশ্বাস বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।