নতুন অর্থবছরের তৃতীয় মাসেও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে খুব একটা গতি আসেনি। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে এডিপির মাত্র ৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। এ সময়ে মোট ব্যয় হয়েছে ১২ হাজার ১৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। এর বড় অংশই ব্যয় করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। বিপরীতে বড় বরাদ্দ থাকা তিন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এ সময়ে কোনো অর্থই ব্যয় করতে পারেনি।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) প্রকাশিত পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে এডিপির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৮ হাজার ৯২৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। এই অর্থ বাস্তবায়নের জন্য রয়েছে ১ হাজার ১৭২টি প্রকল্প। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ৯৮৬টি, সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্প ২৩টি, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ১০৯টি এবং নিজস্ব অর্থায়নের প্রকল্প রয়েছে ৫৩টি।
অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ৩ লাখ কোটি টাকার বেশি এডিপির বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ১২ হাজার ১৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ জুলাই-সেপ্টেম্বরে পুরো বছরের বরাদ্দের চার শতাংশেরও কম বাস্তবায়ন হয়েছে। শুধু চলতি অর্থবছরেই নয়, আগের কয়েক বছরের তুলনায়ও এবার এডিপি বাস্তবায়নের হার কমেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৫ দশমিক ০৯ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ।
আইএমইডির তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। চলতি অর্থবছরে এ বিভাগের অধীনে ২০১টি প্রকল্পে বরাদ্দ রয়েছে ৩৩ হাজার ৩৭৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এর বিপরীতে জুলাই-সেপ্টেম্বরে ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ১৪৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এ হিসাবে বিভাগের নিজস্ব বরাদ্দের ১২ দশমিক ৪২ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে।
সবচেয়ে কম বাস্তবায়নের চিত্র দেখা গেছে তিন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে। অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে সেতু বিভাগ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এডিপির কোনো অর্থই ব্যয় করতে পারেনি। সার্বিকভাবে, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার আগের কয়েক বছরের একই সময়ের তুলনায় কম। বিশেষ করে বড় বরাদ্দ থাকা কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ধীরগতির কারণে সামগ্রিক বাস্তবায়নেও এর প্রভাব পড়েছে।