আসামি ছিনতাই: বিএনপি ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে একাধিক মামলার আসামি নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় বিএনপি ও নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— সরিষা ইউনিয়ন বিএনপির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ মিলন (৫০) এবং নিষিদ্ধঘোষিত ঈশ্বরগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নয়ন মণ্ডল (২৮)।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে তাদের আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। এর আগে গতকাল শনিবার রাতে উপজেলার সরিষা ইউনিয়ন ও ঈশ্বরগঞ্জ ইউনিয়নের আশ্রবপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।  

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের ডেকুয়ারচর দাখিল মাদরাসা মাঠে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ দেখতে যান ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল আলম ওরফে শাহীন (৩০)। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। শাহীনের অবস্থানের খবর পেয়ে আঠারবাড়ী রায়েরবাজার পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) মাজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তাকে আটক করে থানায় নেওয়ার পথে স্থানীয় কয়েকজন বাধা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় পুলিশ সদস্যদের মারধর ও পুলিশের ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর করে শাহীনের হেফাজত থেকে তাকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় এসআই মাজহারুল ইসলাম বাদী হয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলায় ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলার এজাহারনামীয় পাঁচ নম্বর আসামি নূর মোহাম্মদ মিলনকে সরিষা এলাকা থেকে এবং নয়ন মণ্ডলকে আশ্রবপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে এ মামলায় ওয়াসিম মিয়া (২৬) ও এমদাদুল হক (৪৫) নামে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ নিয়ে মামলায় মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসানের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আশরাফুল করিম ও গৌরীপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবাশীষ কর্মকারের নেতৃত্বে এবং ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ রোমানের তত্ত্বাবধানে অভিযান চালানো হয়।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ রোমন বলেন, পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপরাধী কোন দলের না। সে যেই হোক এবং যে দলেরই হোক কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।