১০১ জন নাট্যকার ও সংস্কৃতিকর্মীর বিবৃতি

মহিলা সমিতির মিলনায়তনে সরকারি প্রণোদনা পুনর্বহালের দাবি

রাজধানীর নাটক সরণির বাংলাদেশ মহিলা সমিতির ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে নাটক মঞ্চায়নের জন্য সরকারি প্রণোদনা পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন নাট্যাঙ্গনের ১০১ জন নাট্যকার, নির্দেশক, অভিনয়শিল্পী, শিক্ষক ও সংস্কৃতিকর্মী।

আজ রবিবার (২৫ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, আগে এই মিলনায়তনে এক শিফটে নাটক মঞ্চায়নের জন্য ভাড়া ছিল ৫ হাজার টাকা। তবে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেই ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৫০০ টাকায়। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভর্তুকি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নাট্যদলগুলোকে বাড়তি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। এতে আর্থিক চাপে পড়েছে দলগুলো এবং মিলনায়তনটিতে নাটক মঞ্চায়নের আগ্রহ কমছে।

MixCollage-25-Oct-2026-06-21-PM-415

বিবৃতিদাতারা জানান, ২০১৭ সালের জুনে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ খাতে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া শুরু হয়। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মিলনায়তনটিতে নাটক মঞ্চায়নের জন্য সরকারি প্রণোদনা চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। প্রতি মাসে ২০টি প্রদর্শনীর বিপরীতে প্রতিটির জন্য ৬ হাজার ৫০০ টাকা হিসাবে ১১ মাসে মোট ১৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

নাট্যাঙ্গনের প্রতিনিধিরা বলেন, ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ মহিলা সমিতির মঞ্চ থেকেই দেশে টিকিট কেটে নাটক দেখার সংস্কৃতির সূচনা হয়। বাংলাদেশের নাট্যচর্চার ইতিহাসে এই মঞ্চের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু মিলনায়তন ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় টিকিট বিক্রি করে প্রদর্শনীর খরচ তোলা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক নাট্যদল এখানে নিয়মিত নাটক মঞ্চায়নে আগ্রহ হারাচ্ছে।

বিবৃতিতে নাট্যচর্চার এই গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে প্রদর্শনী অব্যাহত রাখতে অবিলম্বে সরকারি প্রণোদনা পুনর্বহাল এবং নাট্যদলগুলোর আর্থিক চাপ কমাতে সামগ্রিক প্রণোদনার পরিমাণ বাড়ানোর দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি নিয়মিত বরাদ্দ নিশ্চিত করতে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিবৃতিদাতাদের পক্ষে স্বাক্ষর করেছেন ‘ক্ষ্যাপা’ থিয়েটারবিষয়ক পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক অপু মেহেদী।

বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন নাট্যনির্দেশক ও শিক্ষক সৈয়দ জামিল আহমেদ, অভিনয়শিল্পী ও নির্দেশক সারা যাকের, নাট্যকার, নির্দেশক ও অভিনয়শিল্পী মামুনুর রশীদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, অভিনয়শিল্পী ফেরদৌসী মজুমদার, নাট্যজন অধ্যাপক আব্দুস সেলিম, অভিনয়শিল্পী ও নির্দেশক মোহাম্মদ বারী, নাট্যকার ও গবেষক রতন সিদ্দিকী, নাট্যশিক্ষক ভাস্বর বন্দোপাধ্যায়, অভিনয়শিল্পী ফজলুর রহমান বাবু, নাট্যশিল্পী ও সম্পাদক পাভেল রহমান, অভিনেতা, নাট্যকার ও নির্দেশক আজাদ আবুল কালাম, অভিনয়শিল্পী শহীদুজ্জামান সেলিম, অভিনয়শিল্পী নাজনীন হাসান চুমকী, নাট্যকার ও নির্দেশক শুভাশিস সিনহা, অভিনয়শিল্পী রোজী সিদ্দিকী, অভিনয়শিল্পী ও নির্দেশক ত্রপা মজুমদার, অভিনয়শিল্পী শাহজাদা সম্রাট চৌধুরী ও অভিনয়শিল্পী মাহফুজ সুমনসহ ১০১ জন।