ধর্মীয় নানা আনুষ্ঠানিকতা ও শুভ্র ফানুস উড়িয়ে চট্টগ্রাম নগরীতে পালিত হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা। আষাঢ় থেকে আশ্বিন; দীর্ঘ তিন মাসের বর্ষা ব্রত পালন শেষ করে শুভ্র ফানুসের রঙে বর্ণিল হয়ে ওঠে নগরীর নন্দনকাননের আকাশ। অশুভ শক্তির বিনাশ আর অশান্ত বিশ্বে শান্তি ও সংহতির কামনায় প্রার্থনায় শামিল হন হাজারও পুণ্যার্থী।
রোববার ভোরে নন্দনকানন চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারে তথাগত গৌতম বুদ্ধের উদ্দেশে ফুল পূজা ও সমবেত প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দিবসের সূচনা হয়। সকালে পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহণের পাশাপাশি ভিক্ষু সংঘের সূত্রপাঠ এবং বিশ্বশান্তি কামনায় বিশেষ জল উৎসর্গ করা হয়। বিহার প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালায় ভোর থেকেই ঢল নামে পুণ্যার্থীদের।
বিকালে ভিক্ষু সংঘের ধর্মদেশনা, সূত্রপাঠ, শীল গ্রহণ ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের পর আয়োজন করা হয় ফানুস উৎসবের। সম্মিলিত প্রবারণা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবে তরুণ-তরুণীরা নানা আকৃতির রঙিন ফানুস ও ঢাক-ঢোলের বাজনার তালে তালে মেতে ওঠেন অনাবিল আনন্দে। প্রবারণা পূর্ণিমার মূল বাণী বহনকারী ফানুস প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে রাতের আকাশে ছড়িয়ে পড়ে শান্তির বার্তা।
অনুষ্ঠানে নন্দনকানন বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ জিনবোধি ভিক্ষু বলেন, "মানুষের মধ্যে প্রেম, ভালোবাসা ও মনুষ্যত্বের জাগরণ ঘটানোর জন্য প্রবারণা পূর্ণিমা এক যুগোপযোগী উৎসব। প্রবারণা পূর্ণিমায় অন্তত একদিনের সরকারি ছুটির দাবি আমরা দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছি। সম্প্রীতির এই বার্তা সর্বজনীন করতে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা প্রয়োজন।"
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, "চট্টগ্রাম চিরকালই সম্প্রীতি ও সাম্যের নগরী। এই শহর সব ধর্মের মানুষের জন্য নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করবে। শান্তিময় ও নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে যেকোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির চেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে।"
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। প্রবারণা উদযাপন পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক রুবেল বড়ুয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রিয় রত্ন মহাথের, প্রজ্ঞাপাল মহাথের ও সুমনপ্রিয় মহাথেরসহ বিশিষ্ট সামাজিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি এই রঙিন আলোকউৎসব উপভোগ করতে বৌদ্ধ সম্প্রদায় ছাড়াও সর্বস্তরের নগরবাসী নন্দনকানন বিহার প্রাঙ্গণে সমবেত হন। ফানুসের মায়াবী আলো আর সম্প্রীতির আমেজে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো চত্বর।