রাজনৈতিক বিবেচনায় ১৫ বছরে ১৪১৩ প্লট

২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পাঁচটি প্রকল্পে রাজনৈতিক বিবেচনায় মোট ১ হাজার ৪১৩টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ৮৭৪টি এবং ঝিলমিল আবাসিক এলাকার ২০০টিসহ মোট ১ হাজার ৭৪টি প্লট বরাদ্দে অনিয়ম পাওয়া গেছে। গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এসব তথ্য জানানো হয়।

কমিটির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জানানো হয়, হাইকোর্ট বিভাগের দায়ের করা রিট পিটিশনের রুলের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত কমিটি রাজউকের বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া প্লটের নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। প্রতিবেদনে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাজধানীর গুলশান, বনানী, উত্তরা, পূর্বাচল ও ঝিলমিল আবাসিক এলাকায় রাজনৈতিক বিবেচনায় মোট ১ হাজার ৪১৩টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব প্লটের মধ্যে এখন পর্যন্ত পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ৮৭৪টি এবং ঝিলমিল আবাসিক এলাকার ২০০টিসহ মোট ১ হাজার ৭৪টি প্লট বরাদ্দে অনিয়ম পাওয়া গেছে। এসব প্লটের নথিসংক্রান্ত কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

বৈঠকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরস্থানের মূল অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং সংলগ্ন উদ্যান ও প্রাঙ্গণের অসমাপ্ত সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ দ্রুত শেষ করার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কবরস্থানের মূল অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এ কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, সরকারি ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য ‘এনহ্যান্সিং ক্লিন এনার্জি অ্যাকসেস থ্রু রুফটপ সোলার পিভি ইন পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ শীর্ষক প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে ৩৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্ট ভবনগুলোর চাহিদা মেটানোর পর বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত থাকলে তা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে।

 বৈঠকে জানানো হয়, আগামী ১৬ ডিসেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের আগারগাঁওয়ে নতুন সচিবালয়ের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ ছাড়া ২০২৬ সালে জাতীয় সংসদ ভবনকেন্দ্রিক গণপূর্ত অধিদপ্তরের সম্পন্ন করা বিভিন্ন পূর্তকাজের বিস্তারিত বিবরণ উপস্থাপন করা হয়। জাতীয় সংসদ ভবনের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সংসদের ভাবগাম্ভীর্য অক্ষুন্ন রাখতে সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এমপি, মো. লুৎফুজ্জামান বাবর এমপি, শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল এমপি, এম মঞ্জুরুল করিম রনি এমপি, মো. রুহুল আমিন এমপি এবং মো. তাজউদ্দীন খান এমপি, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ অধীন দপ্তর ও সংস্থার প্রধান, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।