ব্র্যাক ব্যাংকের এক হাজার কোটি টাকার ‘গ্রিন বন্ড’

দেশের প্রথম ব্যাংক হিসেবে ১ হাজার কোটি টাকার গ্রিন বন্ড ইস্যু করতে যাচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক। এ বন্ড থেকে সংগৃহীত অর্থ নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণ এবং শিল্পকারখানার জ্বালানি-দক্ষতা বাড়ানোর প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হবে। তিন বছর মেয়াদি এই বন্ডের বার্ষিক সুদের হার ধরা হয়েছে সাড়ে ৭ শতাংশ এবং এই বন্ড থেকে প্রাপ্ত আয় সম্পূর্ণ করমুক্ত থাকবে। আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে বন্ডটি ইস্যু করা শুরু হবে।

গতকাল রবিবার ব্র্যাক ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রিন বন্ড চালুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর এসব তথ্য জানান।

তারেক রেফায়াত উল্লাহ খান বলেন, দেশের প্রথম ব্যাংক হিসেবে ১ হাজার কোটি টাকার গ্রিন বন্ড ইস্যু ব্যাংকিং খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সাশ্রয়ী অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করবে গ্রিন বন্ড। এ বন্ড থেকে পাওয়া অর্থ পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে বিনিয়োগের পাশাপাশি শিল্পকারখানার জ্বালানি-দক্ষতা বাড়ানোর কাজে ব্যবহার করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এই বন্ডটি হবে অরূপান্তরযোগ্য, সম্পূর্ণ পরিশোধযোগ্য ও জিরো-কুপন বন্ড। অর্থাৎ নির্দিষ্ট বিরতিতে সুদ বা কুপন দেওয়া হবে না। বিনিয়োগকারীরা অভিহিত মূল্যের চেয়ে কম দামে বন্ড কিনবেন এবং মেয়াদপূর্তিতে পুরো অভিহিত মূল্য পাবেন। ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি

বলেন, বার্ষিক ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ ডিসকাউন্ট রেট ধরে তিন বছর মেয়াদে ১০ লাখ টাকা অভিহিত মূল্যের একটি বন্ডের সম্ভাব্য ক্রয়মূল্য হবে প্রায় ৮ লাখ ৪ হাজার ৯৬১ টাকা। মেয়াদপূর্তিতে বিনিয়োগকারী পাবেন ১০ লাখ টাকা। এতে তিন বছরে সম্ভাব্য আয় হবে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৯ টাকা। অর্থাৎ এ সময়ে বিনিয়োগের ওপর মোট সম্ভাব্য রিটার্ন ২৪ দশমিক ২৩ শতাংশ।

তারেক রেফায়াত উল্লাহ খান বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য কর-সুবিধা থাকায় এটি আকর্ষণীয় হবে। বন্ড থেকে সংগৃহীত অর্থের যথাযথ ব্যবহার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতি বছর নিরীক্ষা করা হবে বলেও তিনি জানান।

বন্ডটিতে করপোরেট প্রতিষ্ঠান, উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তি ও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করতে পারবেন। প্রযোজ্য বিধিবিধান ও শর্ত পূরণ সাপেক্ষে কোম্পানির প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটি ফান্ড থেকেও বিনিয়োগ করা যাবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

ব্র্যাক ব্যাংক জানিয়েছে, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ষষ্ঠ তফসিলের প্রথম অংশের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লেখিত বিধান অনুযায়ী জিরো-কুপন বন্ড থেকে অর্জিত আয় প্রযোজ্য শর্তে উৎসে আয়করসহ আয়কর থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত। এ ছাড়া বন্ডটি স্টক এক্সচেঞ্জের মূল বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর বিনিয়োগের বিপরীতে কর রেয়াত পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

এক প্রশ্নের জবাবে ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি বলেন, গ্রিন বন্ড ও সোশ্যাল বন্ডের মূল পার্থক্য হলো অর্থ ব্যবহারের উদ্দেশ্যে। গ্রিন বন্ডের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ জ্বালানি সাশ্রয়, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণের মতো পরিবেশ সুরক্ষামূলক প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হয়।

অন্যদিকে সোশ্যাল বন্ডের অর্থ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন, পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নসহ বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পে ব্যয় করা হয়। অর্থাৎ গ্রিন বন্ডের মূল লক্ষ্য পরিবেশগত উন্নয়ন, আর সোশ্যাল বন্ডের লক্ষ্য সামাজিক উন্নয়ন। দুই ধরনের বন্ডই টেকসই উন্নয়নে অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করে, তবে অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্র আলাদা।