মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুমোদন করেছে পাকিস্তান

তুরস্ক ও সৌদি আরবের সঙ্গে করা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি (মক্কা চুক্তি নামে পরিচিত) অনুমোদন করেছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান গত শুক্রবার এ কথা জানান। তিনি বলেন, ইসলামাবাদ ও রিয়াদ গত ৭ আগস্ট তিন দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে।

পাকিস্তান এমন সময়ে চুক্তিটি অনুমোদন করল, যখন সৌদি আরব নতুন করে নিরাপত্তাঝুঁকির মুখে পড়েছে এবং ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তার জন্য মিত্র খুঁজছে।

সংবাদ মাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানায়, সাজ্জাদ হায়দার খান বলেছেন, ‘চুক্তি, এর অনুমোদন এবং তা কার্যকর করার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে তিন পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে।’ চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী তিন দেশের মধ্যে তুরস্কের অভ্যন্তরীণ অনুমোদনের প্রক্রিয়া এখনো চলছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় ১৬ ধারার এই চুক্তিটি স্বাক্ষর করেন। চুক্তিতে তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর বাইরে থেকে সশস্ত্র হামলা হলে সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কথা বলা আছে। তবে কী ধরনের ও কতটা সহায়তা দেওয়া হবে, তা পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে। চুক্তির বিবরণীতে কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা অঞ্চলকে হুমকি বলা হয়নি; বরং তিন দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ভূখ- ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্ত রক্ষায় পারস্পরিক সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে।

৫ অক্টোবর তিন দেশের কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির বৈঠকের পর চুক্তিটি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়েছে। বৈঠকে তিন দেশের সম্মিলিত প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ আইন অনুযায়ী সৌদি আরবে দ্রুত সামরিক বাহিনী ও সামরিক সক্ষমতা মোতায়েনের আহ্বান জানানো হয়।