নারায়ণগঞ্জ শহরে হকার উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খানের ওপর হামলাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় উচ্ছেদকর্মীদের সঙ্গে হকারদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক ও শায়েস্তা খান সড়কে হকার উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নাসিক প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান এবং সদস্যসচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু উচ্ছেদকর্মীদের নিয়ে অভিযান চালাতে যান। একপর্যায়ে হকাররা ক্ষুব্ধ হয়ে সাখাওয়াত হোসেন খানকে ঘিরে ধরেন এবং উচ্ছেদকর্মীদের মারধর করেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হকারদের অভিযোগ, কোনো ধরনের নোটিশ না দিয়েই রাতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। এ সময় তাদের মালামাল নিয়ে যাওয়া ও মারধর করা হয়।
জীবন নামে এক হকার বলেন, নাসিক প্রশাসক তাদের কোনো নোটিশ না দিয়ে রাতে উচ্ছেদ অভিযান চালাতে আসেন। এ সময় তাদের মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়। সাখাওয়াতের লোকজন তারসহ অন্য হকারদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনার বিচার দাবি করেন জীবন।
সাইফুল ইসলাম নামে আরেক হকার বলেন, প্রশাসক লোকজন নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছেন এবং মালামাল নিয়ে গেছেন। এমন ঘটনা তারা প্রত্যাশা করেননি, পুলিশ তাদের পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। বিচার না পেলে তারা কঠোর আন্দোলনে যাবেন।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুর রহমান বলেন, প্রশাসক উচ্ছেদ অভিযান চালাতে এসেছিলেন। তবে এ বিষয়ে প্রশাসন বা পুলিশ কাউকেই জানানো হয়নি। অভিযান শেষে হকারদের সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডা হয়। খবর পেয়ে তিনি পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ওসি আরও জানান, নাসিক প্রশাসক বর্তমানে বাসায় অবস্থান করছেন।
সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, তিনি উচ্ছেদকর্মীদের নিয়ে হকার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছিলেন। এ সময় হকাররা উচ্ছেদকর্মীদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন এবং তার সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে হকাররা তাদের মালামাল রাস্তায় ফেলে দেন বলেও দাবি করেন তিনি। পরে সেখান থেকে চলে যান এবং বর্তমানে বাসায় অবস্থান করছেন বলে জানান নাসিক প্রশাসক।