খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ আত্মসাৎ চেষ্টার অভিযোগে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) প্রধান প্রকৌশলীসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত ২৫ অক্টোবর (রবিবার) দুদকের খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলা দুটি দায়ের করা হয়।
দুদকের খুলনা জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ২৩ অক্টোবর কমিশন থেকে এই মামলা দায়েরের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
মামলার বাদী হয়েছেন দুদকের খুলনা জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. আশিকুর রহমান। মামলার আসামিরা হলেন- ১. কাজী মো. সাবিরুল আলম, প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব), কেডিএ ২. শামীম জেহাদ, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, কেডিএ ৩. মো. আরমান হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক, কেডিএ ৪. মুনতাসির মামুন, নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপ-প্রকল্প পরিচালক, কেডিএ ৫. বাসুদেব কুমার বিশ্বাস, সহকারী প্রকৌশলী, কেডিএ ৬. শরীফ ওয়াহিদুজ্জামান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী, কেডিএ ৭. মো. আতাউর রহমান, চেয়ারম্যান, আতাউর রহমান খান লিমিটেড
৮. শেখ মাহাবুব রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মাহাবুব ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড
দুদকের এজাহার সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহাবুব ব্রাদার্স লিমিটেড ও আতাউর রহমান খান লিমিটেডকে যৌথভাবে খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল।
অভিযোগ রয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রকল্পের মূল নকশা বা পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ না করে প্রায় ১১ কোটি টাকা আত্মসাতের চেষ্টা চালান।
দীর্ঘ ১৩ বছরেও প্রকল্পটির কাজ শেষ না করে সরকারি তহবিলের অর্থ অপচয় ও অনিয়ম করার অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের মে মাসে একনেক সভায় মাত্র ৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। তবে দীর্ঘ ১৩ বছরেও সড়কটির নির্মাণ শেষ হয়নি, উল্টো দফায় দফায় সময় বাড়িয়ে এর ব্যয় প্রায় ২৮০ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্পের নজিরবিহীন দীর্ঘসূত্রতা ও জনদুর্ভোগ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় দুদকের দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর এই মামলা দায়ের করা হলো।
দুদক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মামলার প্রাথমিক তদন্ত শেষ হয়েছে এবং তদন্তে আরও কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে।