সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল রোম

ইতালির রাজধানী রোমে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। গত সপ্তাহান্তে মিলানে সহিংস বিক্ষোভের পর দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হলেও শনিবার বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর আনাদোলু এজেন্সি। 

বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আগেই বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছিল কর্তৃপক্ষ। তা সত্ত্বেও রোমের কয়েকটি এলাকায় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

শনিবার দিনভর রাজধানীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠী বিক্ষোভ করে। সকালে গত সপ্তাহান্তে মিলানে সংঘটিত সহিংস বিক্ষোভের প্রতিবাদে কর্মসূচি পালন করে কট্টর ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো।

শহরের কেন্দ্রস্থলে কয়েক ঘণ্টা বিক্ষোভের পর সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। তবে সান্তা সুসান্না স্কয়ারের কাছে পুলিশের ব্যারিকেডে বাধা পান তাঁরা।

এ সময় সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের আলোচনা চলছিল। এর মধ্যেই একদল বিক্ষোভকারী নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে বোতল, বিস্ফোরকজাতীয় বস্তু ও আতশবাজি ছুড়তে শুরু করেন।

জবাবে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে। কয়েকটি স্থানে লাঠিচার্জও করা হয়।

শেষ পর্যন্ত পুলিশ মিছিল এগিয়ে যেতে দেবে না বুঝতে পেরে বিক্ষোভকারীরা পথ পরিবর্তন করেন এবং ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান।

ইতালির সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভের আগে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে শনিবার ভোরে রোম থেকে ২৮ জনকে আটক করে নিরাপত্তা বাহিনী।

রোম ও মিলানের পাশাপাশি নেপলস, বোলোনিয়া ও তুরিনেও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারের নীতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বোলোনিয়া ও তুরিনেও কয়েক দফায় বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।

গত সপ্তাহান্তে মিলানে সহিংস বিক্ষোভের পর শহরটির কেন্দ্রস্থলে ৫০০ সেনা মোতায়েন করা হয়। সম্ভাব্য ভাঙচুর থেকে রক্ষা করতে বিভিন্ন দোকানের সামনের কাচের জানালাও কাঠের তক্তা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়।

শনিবার বিভিন্ন সময়ে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলেও পরিস্থিতি বড় ধরনের সহিংসতায় রূপ নেয়নি।

বিক্ষোভের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, 'নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার রক্ষায় দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। ইতালির বিভিন্ন চত্বরে আজও কিছু সহিংস গোষ্ঠী সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খলা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তা সত্ত্বেও তাঁরা তাঁদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।'