কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেছেন বিদ্যালয়টির বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২টায় স্কুলের প্রধান ফটকের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে স্কুল চত্বরে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধের দাবিসংবলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
শিক্ষার্থীদের দাবি, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত স্কুল চত্বরে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক দলের ঘোষিত লংমার্চ কর্মসূচি আয়োজনের স্থান ও দিনক্ষণ চূড়ান্ত করে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বিষয়টিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে স্কুল মাঠে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধের দাবি জানান তারা। এ সময় নিজেদের দাবির পক্ষে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেন বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যালয়ের ১৯৮২-৮৩ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী ও বর্তমান এক অভিভাবক সাহাজুল আলম বলেন, এখন পর্যন্ত এই স্কুল মাঠে কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি পালনের জন্য স্থান নির্ধারণ করতে দেখেননি তিনি। স্কুল প্রাঙ্গণে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হলেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিদ্যালয়টিকে মুক্ত রাখার বিষয়ে জেলার অন্যান্য রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল নেতারা সহযোগিতা করেছেন। তারা কখনো এখানে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অনুরোধ বা চাপ সৃষ্টি করেননি।
তিনি আরও বলেন, এখন স্কুল কর্তৃপক্ষের সম্মতি ছাড়াই বড় একটি কর্মসূচি পালনের জন্য মাঠ ব্যবহারের প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে শুনছেন। বিষয়টি মোটেও ভালো হয়নি। এত দিন যা হয়নি, এখনো তা হতে দেওয়া হবে না। স্কুল মাঠকে রাজনীতিমুক্ত রাখতে প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমিরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীরা যে দাবিতে মানববন্ধন করছেন, তার সঙ্গে তার কোনো দ্বিমত নেই। স্কুল কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর লংমার্চ কর্মসূচি পালনের জন্য মাঠ ব্যবহারের কোনো অনুমতি দেয়নি। আয়োজকেরা চাইলে অন্য কোনো উপযুক্ত স্থানে তাদের কর্মসূচি পালন করতে পারেন।
অন্যদিকে, স্কুল মাঠ ব্যবহারের আবেদনকারী কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক ও ১১-দলীয় জোটের জেলা সমন্বয়ক এনামুল হকের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফোন রিসিভের অনুরোধ জানিয়ে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
বিদ্যালয়ের সভাপতি ও কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান জানান, স্কুল মাঠ ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক আবেদন করেছেন। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বা সম্মতি ছাড়াই মাঠ ব্যবহারের প্রচারণা চালানো হয়ে থাকলে তা দুঃখজনক।