পূর্ণিমার আকাশে ফানুস, নদীতে কল্পজাহাজ

আকাশজুড়ে ফানুসের আলো আর বাঁকখালী নদীতে কল্প জাহাজের ভাসমান শোভা—সব মিলিয়ে উৎসবমুখর কক্সবাজারের রামু। তবে এবারের প্রবারণা পূর্ণিমার আয়োজনে উৎসবের রঙ ছাপিয়ে বিশেষভাবে উঠে এসেছে ২০১২ সালে বৌদ্ধ মন্দির ও বৌদ্ধ পল্লীতে হামলার বিচার দাবি। বিভিন্ন কল্প জাহাজে চিত্রকর্ম, আর্ট ও গ্রাফিতির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা।
 
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকালে রামুর বাঁকখালী নদীর চরে আয়োজিত কল্প জাহাজভাসা উৎসবে সাতটি বর্ণিল জাহাজ নিয়ে অংশ নেন আয়োজকেরা।
 
রংবেরঙের নকশা ও চিত্রকর্মে সাজানো এসব জাহাজে স্থান পায় ২০১২ সালের হামলার বিচার চেয়ে নানা বার্তা। নদীর জলে জাহাজের ভাসমান শোভা আর উৎসবে অংশ নেওয়া মানুষের উচ্ছ্বাসে তৈরি হয় বর্ণিল পরিবেশ। এর আগে রবিবার সন্ধ্যা থেকে রামুর আকাশে উড়তে দেখা যায় শত শত দৃষ্টিনন্দন ফানুস।
 
MixCollage-26-Oct-2026-08-16-PM-6710
 
উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জাহাজভাসা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিপ্লব বড়ুয়া। প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ও বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ড. সুকোমল বড়ুয়া। প্রধান আলোচক ছিলেন কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব লুৎফুর রহমান কাজল।
 
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, ২০১২ সালে রামুতে বৌদ্ধ মন্দির ও বৌদ্ধ পল্লীতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন। মামলাগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি সব ধর্মের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
 
রামু সরকারি কলেজের শিক্ষক মানসি বড়ুয়া ও জাহাজভাসা উদযাপন পরিষদের সমন্বয়ক অর্পন বড়ুয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান ও রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে ফজলুল হক। এ ছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, জনপ্রতিনিধি, বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
 
জাহাজভাসা উদযাপন পরিষদের সমন্বয়ক অর্পন বড়ুয়া জানান, বৌদ্ধ ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে প্রবারণা পূর্ণিমার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, মহামতি গৌতম বুদ্ধের বৈশালী থেকে রাজগৃহে প্রত্যাবর্তনের স্মৃতিকে ধারণ করে রামুতে কল্প জাহাজভাসা উৎসবের আয়োজন করা হয়।