পঞ্চমদিনেও অবরোধে অচল সাজেক, ব্যর্থ সমঝোতা

পার্বত্য জেলা রাঙামাটির বাঘাইছড়ির জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালিতে চলমান সংকট নিরসনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও তা পুরোপুরি সফল হয়নি। সরকার পক্ষের কাছ থেকে মূল দাবি বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পাওয়ায় অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ৮টায় ‘সাজেক গণঅধিকার আন্দোলন’-এর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচারিত এক বক্তব্যে সংগঠনের আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা এই ঘোষণা দেন।

এর আগে সোমবার দুপুর ৩টায় সাজেকের উজোবাজারে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত দোকানপাট পরিদর্শন করেন এবং কেয়ার পয়েন্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে এক আলোচনা সভায় অংশ নেন।

ওই বৈঠকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া, রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খান ও রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিবসহ প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, সাজেক গণঅধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক বাবুধন চাকমার নেতৃত্বে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধিদলও ওই বৈঠকে অংশ নিয়ে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরে।

বৈঠক শেষে বাবুধন চাকমা জানান, তাদের উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবির মধ্যে চারটি দাবি মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। তবে তাদের প্রধান ও মূল দাবি হলো: 'সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র গ্রুপকে সাজেক এলাকা থেকে অবিলম্বে চিরতরে সরিয়ে দেওয়া।'

এই মূল দাবিটির বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রথমে এক মাস সময় চাওয়া হয়েছিল। পরে আন্দোলনকারীরা তিন দিন সময় দিতে রাজি হলেও সরকার ৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় চায়।

পরে উভয় পক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে আগামী পাঁচ দিন সময় দিতে সম্মত হন আন্দোলনকারীরা। তবে সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ ও সন্তোষজনক আশ্বাস না পাওয়ায় তারা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, 'সরকার চাইলে অতি অল্প সময়ের মধ্যেই এ ধরনের সংঘাতময় সমস্যার সমাধান করতে পারে। কিন্তু সরকারের ইতিবাচক মনোভাবের ঘাটতি ও কালক্ষেপণের কারণেই সংকট দীর্ঘায়িত হচ্ছে।'

দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার যদি আন্তরিকভাবে আলোচনায় বসতে চায়, তবে আন্দোলনকারীরাও আলোচনার দরজা খোলা রেখেছেন।

গত ২২ অক্টোবর থেকে 'সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অপসারণসহ' বিভিন্ন দাবিতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এই অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ পালিত হচ্ছে।

টানা পাঁচ দিন ধরে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় সাজেক পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে। এর ফলে পাহাড়ের পর্যটনশিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র আর্থিক ক্ষতি ও গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে কঠোর পাহারা ও টহল অব্যাহত রেখেছেন।