ফুল এলো বত্রিশ হাজার বছর পর

রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা সাইবেরিয়ার বরফাবৃত অঞ্চল থেকে প্রাগৈতিহাসিক উদ্ভিদের অংশবিশেষ উদ্ধার করে, ল্যাবরেটরিতে নতুন করে উদ্ভিদে প্রাণসঞ্চার করেছেন। একে জীববিজ্ঞানের ইতিহাসে ৩২,০০০ বছর পর, প্রাচীন কোনো বহুকোষী জীবকে পুনরুজ্জীবিত করার রেকর্ড হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, শেষ বরফ যুগে একটি কাঠবিড়ালি মাটির প্রায় ১২৪ ফুট গভীরে গর্তে খাবার হিসেবে এই উদ্ভিদের ফল ও বীজ জমিয়ে রেখেছিল। তীব্র ঠান্ডা ও হিমায়িত পরিবেশের কারণে, প্রাকৃতিকভাবে টিস্যুগুলো হাজার হাজার বছরে নষ্ট না হয়ে অক্ষত থেকে যায়। দীর্ঘসময় হিমায়িত থাকায় উদ্ভিদের পরিপক্ব বীজগুলো সরাসরি অঙ্কুরিত হতে পারেনি। কিন্তু  রাশিয়ার অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সের গবেষকরা, ফলের ভেতরে থাকা অপরিণত বীজের ভ্রুণকোষ সংগ্রহ করেন। তারপর ল্যাবে ক্লোনিং ও টিস্যু কালচার প্রযুক্তির মাধ্যমে চারাগাছ তৈরি করেন। পরক্ষণে বিস্ময়। গাছগুলো শুধু বেঁচে ওঠেনি, বরং তাতে সাদা ফুল ফুটেছে এবং উর্বর বীজ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে। এই সপুষ্পক উদ্ভিদটির নাম ‘সাইলিন স্টেনোফিলা’। এটি মূলত সাদা রঙের ছোট বন্য ফুলগাছ, যা সাইবেরিয়ার তুন্দ্রা অঞ্চলে পাওয়া যায়। তবে বর্তমানের চেয়ে ৩২,০০০ বছর আগের প্রাচীন গাছের ফুলের পাপড়ির গঠনে ভিন্নতা রয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্রাচীন ফুল থেকে উৎপন্ন নতুন বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা ১০০%, যা বর্তমান যুগের বীজের চেয়ে শক্তিশালী। আবিষ্কারটি বলে হিমায়িত স্তরগুলো কেবল কবরস্থান নয়, বরং ভবিষ্যতে বিশ্বব্যাপী বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে জিনগত ঐতিহ্য সংরক্ষণের পরীক্ষাগার।