স্বর্ণালি স্বর্ণ কুমুদ

স্বর্ণ কুমুদ ফুলের রঙ দেখতে অনেকটা স্বর্ণের মতো হওয়ায় এর নাম হয়েছে স্বর্ণ কুমুদ। এটি বাংলাদেশের ডোবা ও জলাশয়ে জন্মে। বর্তমানে এটি একটি দুষ্প্রাপ্য জলজ উদ্ভিদে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে স্বর্ণ কুমুদ আমাদের দেশে তেমন একটা দেখা যায় না বললেই চলে। উন্মুক্ত পরিবেশে এটি এক সময় পাওয়া গেলেও ডোবা, খাল-বিল ভরাট হয়ে যাওয়ায় প্রাকৃতিক পরিবেশে এখন তেমন পাওয়া যায় না এ ফুল।

স্বর্ণ কুমুদ গাছের পাতা ঘন সবুজ। লতানো কাষ্ঠল কা-ের মতো হয় এ গাছ। কা-সহ মূল গাছ পানির নিচে থাকে। পাতা এবং ফুল ভেসে থাকে পানির ওপরে। এটি অগভীর পরিষ্কার জলে জন্মে থাকে। এর ফুল মাঝারি আকৃতির। সোনালি রঙের। সবুজ পাতার ফাঁকে এ ফুল তার মোহনীয় সৌন্দর্য ছড়ায়। বিলুপ্ত প্রায় এ উদ্ভিদটি এখন প্রাকৃতিক পরিবেশে না পাওয়া গেলেও অনেকে শখের বশে কিংবা বাড়ির শোভাবর্ধনের জন্য স্বর্ণ কুমুদের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন। স্বর্ণ কুমুদের ফুল থেকে সামান্য ব্র্যান্ডির ঘ্রাণ আসে বলে এটাকে Brandz bottle lily নামেও ডাকা হয়। এটি Yellow water lily  নামেও পরিচিত। সায়েন্টিফিক নাম Nuphar lutea। জুন থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে স্বর্ণ কুমুদ গাছে ফুল ফুটে থাকে। এ জলজ গাছটিকে বাংলাদেশের বিলুপ্ত জলজ প্রজাতির গাছ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।