ব্যাংকের মূলধন শক্তিশালীকরণে নতুন উদ্যোগ

দেশের ব্যাংকিং খাতে মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করা এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে মেঘনা ব্যাংক পিএলসি ৪০০ কোটি টাকার দ্বিতীয় সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যুর উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) অনুমোদিত এই বন্ডের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ব্যাংকের টায়ার-২ মূলধন শক্তিশালী করবে এবং ঋণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের শিল্পায়নে ভূমিকা রাখবে বলে গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

মেঘনা ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্ডটির আকর্ষণীয় মুনাফার ব্যবস্থা রয়েছে। এর সুদের হার পরিবর্তনশীল। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ৬ মাস মেয়াদি স্থায়ী আমানতের গড় সুদের হারের (রেফারেন্স রেট) সঙ্গে ৩ শতাংশ মার্জিন যোগ করে এটি নির্ধারিত হবে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ অনুযায়ী এর কুপন রেট বার্ষিক ১২.০৫% (৯.০৫% রেফারেন্স রেট + ৩% মার্জিন), যা প্রচলিত এফডিআর ও সঞ্চয়পত্রের চেয়ে বেশি।

ব্যাংকটির পক্ষ থেকে বিনিয়োগ পদ্ধতি ও মূল্য বিষয়ে জানানো হয়েছে, বন্ডটির প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য ৫ লাখ টাকা। এটি প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ইস্যু করা হবে। এতে বিনিয়োগের কোনো সর্বোচ্চ সীমা নেই।

তালিকাভুক্তির বিষয়ে বলা হয়েছে, বন্ডটি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মেইন বোর্ডে তালিকাভুক্ত করা হবে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারে বন্ডটি লেনদেন বা বিক্রি করার সুযোগ পাবেন, যা বিনিয়োগের তারল্য সুবিধা নিশ্চিত করবে।

বন্ডে বিনিয়োগকারীরা প্রতি ছয় মাস পর পর অর্ধবার্ষিক কুপন বা মুনাফা পাবেন। বন্ডের তৃতীয় বছর শেষে মূলধন পরিশোধ শুরু হবে এবং পরবর্তী ৫ বছরে প্রতি বছর মূল বিনিয়োগের ২০% হারে পরিশোধ করা হবে।

এ ছাড়া ডিএসইতে তালিকাভুক্তির কারণে ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীরা এই বন্ডে বিনিয়োগের বিপরীতে আয়কর আইন অনুযায়ী কর রেয়াতের সুবিধা পাবেন। এ ছাড়া, এই বিনিয়োগে কোনো আবগারি শুল্ক প্রযোজ্য নয়।

বন্ড সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, আকর্ষণীয় কুপন আয়, কর রেয়াত, আবগারি শুল্কমুক্ত সুবিধা এবং নিয়মিত মূলধন পরিশোধের নিশ্চয়তা থাকায় প্রচলিত সঞ্চয়পত্র বা এফডিআরের তুলনায় মেঘনা ব্যাংকের এই বন্ডটি বিনিয়োগকারীদের আর্থিক পরিকল্পনায় একটি চমৎকার বিকল্প ও লাভজনক মাধ্যম হিসেবে ভূমিকা রাখবে।