আলোচনার জন্য অভিজ্ঞ কর্মকর্তা সংকটে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়!

আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির (এফটিএ) প্রথম দফার আলোচনা শুরু হচ্ছে আজ মঙ্গলবার। এ লক্ষ্যে মালয়েশিয়ার ৩০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলও বাংলাদেশে এসেছে। ওই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে ওই দেশের বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের (এমআইটিআই) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ড. রশিদি সাইদ এর। গুরুত্বপূর্ণ এই আলোচনা চালিয়ে নিতে ‘চিফ নেগোশিয়েটর (সিএন)’ নির্বাচন করা নিয়ে বিপাকে পড়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মূলত অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের পদোন্নতির কারণে এ সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

তবে সূত্র বলছে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ আলোচনা এগিয়ে যাবে। হোটেল সোনারগাঁওয়ে আজ মঙ্গলবার বাণিজ্য সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী প্রথম দফার আলোচনা উদ্বোধন করবেন। ইতিমধ্যে দুদেশের পক্ষ থেকে প্রস্তুত করা খসড়া আদান-প্রদান হয়েছে। উভয় দেশের প্রস্তাবিত বিষয়গুলোর ওপর বিস্তারিত আলোচনা হবে।

বৈঠকে দুই দেশের নিজস্ব বাণিজ্যিক চাহিদাগুলো চিহ্নিত করে, একে অন্যকে কী ধরনের বাণিজ্য সুবিধা দেওয়া সম্ভব সে আলোচনার পাশাপাশি বাজার প্রবেশাধিকার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে। পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় শ্রমিক রপ্তানি, তৈরি পোশাক রপ্তানি ও হালাল মার্কেটে পণ্য রপ্তানির বিষয় উঠে আসবে আলোচনায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যেসব কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার চুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তারা বদলি ও পদোন্নতি জনিত কারণে আগের পদে নেই। ফলে আলোচনা চালিয়ে নিতে সমস্যার মুখে পড়েছে মন্ত্রণালয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্য চুক্তির আলোচনায় প্রধান ভূমিকা থাকা মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত এফটিএ অনুবিভাগ এখন নেতৃত্বশূন্য। কারণ এ বিভাগের দায়িত্বে থাকা প্রধান কর্মকর্তা সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারকে এক সপ্তাহ আগে (১৮ অক্টোবর) পদোন্নতি দিয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়েছে। তিনি এর আগে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনায় প্রধান দায়িত্বে (সিএন) ছিলেন।

এ ছাড়া একাধিক বাণিজ্য আলোচনায় ডেপুটি চিফ নেগোশিয়েটর ছিলেন ওই এফটিএ অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ। যিনি বিভিন্ন বাণিজ্য চুক্তির নেগোশিয়েশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি সম্প্রতি বদলি হয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে আছেন।

এমনকি এ মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যোগদান করেছেন মাত্র দুদিন আগে। তিনিও বাণিজ্য আলোচনা বিষয়ে পূর্বে কাজ করার সুযোগ পাননি। সম্প্রতি তিনি দেশ রূপান্তরকে জানান, তিনি এ চুক্তির সম্মন্ধে বিস্তারিতভাবে অবগত নন, কারণ সেদিনই এই মন্ত্রণালয়ে তার ছিল প্রথম কর্মদিবস।

এই আলোচনায় নেতৃত্ব প্রদানের জন্য বৈঠকের ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ গতকাল একজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এ আলোচনায় সিএন হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনকে। ডেপুটি নেগোশিয়েটর হচ্ছেন ওই শাখারই যুগ্ম সচিব মুস্তাফিজুর রহমান। তারা আগে কমিটিতে ছিলেন।

যদিও মালয়েশিয়ার সঙ্গে এ বাণিজ্য চুক্তির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গত জুনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময় দুই দেশের সরকারপ্রধান এফটিএ আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছিলেন। অগ্রধিকার ভিত্তিতে চুক্তি ২০২৭ সালের মধ্যেই সম্পন্ন করার অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সরকার প্রধানরা।