মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) চীনের কুনমিংয়ে ইউনান বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন।
এসময় তিনি ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ও পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি চীনের মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থার পরিচালন কাঠামো সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন।
তাকে স্বাগত জানান ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি অধ্যাপক মা ওয়েনহুই।
আলোচনাকালে অধ্যাপক মা ওয়েনহুই বাংলাদেশ ও ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যকার শিক্ষা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের গভীর আগ্রহের কথা তুলে ধরেন। তিনি বর্তমানে ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, বাংলাদেশি চীনা ভাষা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং চীনা ভাষা ও কারিগরি দক্ষতার সমন্বিত পাঠ্যক্রম চালুর ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রস্তুত রয়েছে।
এছাড়া শিক্ষা, চিকিৎসাবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, পর্যটন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), নৃবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা কাঠামো গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন। যৌথ গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা এবং সমন্বিত গবেষণা প্রকল্প গ্রহণকেও ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্বের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্যপূর্ণ একাডেমিক সম্পর্কের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ মানসম্মত কারিগরি ও চীনা ভাষা শিক্ষা সম্প্রসারণকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি অধ্যাপক মা ওয়েনহুইকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বাগত জানান।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিময়, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময় কর্মসূচি এবং যৌথ প্রশিক্ষণ উদ্যোগকে আরও জোরদার করতে আগ্রহী।
প্রস্তাবিত সহযোগিতা কাঠামো থেকে বিশেষত যৌথ গবেষণা ও সক্ষমতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে বাস্তব ও ফলপ্রসূ অগ্রগতি প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ, যা উভয় দেশের তরুণ শিক্ষার্থী ও গবেষকদের উপকৃত করবে।
মোঃ আব্দুল খালেক আরও উল্লেখ করেন যে, ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনের মাধ্যমে তিনি চীনের বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষাদান পদ্ধতি সম্পর্কে মূল্যবান ধারণা লাভ করেছেন।
তিনি বাংলাদেশের মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে উপযোগী অভিজ্ঞতাগুলো গ্রহণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন ।