সংস্কারের অভাবে বেহাল ঘোড়াশালের একাধিক সড়ক

দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে খানাখন্দে ভরে চরম চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌরসভার একের পর এক জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক। সরেজমিনে দেখা যায়, পৌর এলাকার খানেরপুর থেকে বালিয়ামোর পর্যন্ত বিস্তৃত সড়কজুড়ে দেখা দিয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। সড়কের কোথাও ৮ ইঞ্চি, আবার কোথাও এক থেকে দেড় ফুটসহ গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে সড়কগুলো যেন ছোটখাটো ডোবা বা পুকুরে পরিণত হয়।

দুর্যোগের এ চিত্র ছড়িয়ে পড়েছে পৌরসভার আরও একাধিক সড়কে। জনতা প্রাণ গেইট থেকে ঘোড়াশাল বাজার সড়ক, ঘোড়াশাল পোস্ট অফিস সড়ক থেকে চামড়াব সড়ক, পাইকশা থেকে বালুরচর পাড়া হয়ে ওয়াপদা গেইট সড়ক, ঘোড়াশাল বাইপাস থেকে মিয়াপাড়া হয়ে ঘোড়াশাল বাজার সড়ক, ঘোড়াশাল থেকে পলাশ বাজার, পাইশকা মোড় এবং কামারটেকগামী সড়কগুলোতে নিয়মিত যাতায়াত করাই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হওয়ায় প্রতিদিন চরম জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষকে চলাচল করতে হচ্ছে।

এই সড়কগুলো শুধু স্থানীয়দের যোগাযোগের মাধ্যমই নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অঞ্চলটিতে অবস্থিত দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানা এবং দেশবন্ধু সুগার মিলসহ বিভিন্ন কারখানার ভারী পণ্যবাহী যানবাহন নিয়মিত এই পথেই চলাচল করে। এছাড়া স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই সড়কে যাতায়াত করেন। সড়কগুলোর বেহাল দশার কারণে পণ্য পরিবহন যেমন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি প্রতিনিয়ত গর্তে পড়ে বিকল হচ্ছে যানবাহন এবং ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

ক্ষোভ প্রকাশ করে পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পাইশকা গ্রামের বাসিন্দা এস কে দেবনাথ সমির জানান, পৌরসভার অধিকাংশ রাস্তাঘাট খানাখন্দে ভরা ও বেহাল দশা। সড়কগুলো এমন করুণ অবস্থায় পড়ে থাকলেও পৌরসভা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সংস্কারের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ চোখে পড়েনি। খানাখন্দে চাকা আটকে গাড়ি উল্টে গুরুতর আহত হচ্ছেন চালক ও যাত্রীরা।

টেঙ্গরপাড়া গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা মাহাবুব সৈয়দ বলেন, পৌরসভার একের পর এক জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে খানাখন্দে ভরে গিয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সড়কগুলো স্থায়ীভাবে সংস্কার করে তাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

একইভাবে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বালিয়া বকুলতলা গ্রামের বাসিন্দা মেহেদী হাসান ও নজরুল ইসলাম খান জানান, বালিয়া থেকে ফৌজী রাস্তা হয়ে পলাশ রাস্তার একাধিক অংশে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দে চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের কোথাও ৮ ইঞ্চি, আবার কোথাও গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে সড়কগুলো ছোটখাটো ডোবা বা পুকুরে পরিণত হয়। দ্রুত রাস্তা সংস্কারের জোর দাবি জানান তারা।

যোগাযোগ করা হলে ঘোড়াশাল পৌরসভার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী মো. আবু ওবায়েদ বলেন, পৌরসভার মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী একটি পরিকল্পিত ও টেকসই ড্রেনেজ ও রাস্তা নেটওয়ার্ক তৈরির প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এ সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

ঘোড়াশাল পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক ও পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমেদ জানান, পুরো পৌরসভা নিয়ে একটি মাস্টার প্ল্যান করা হচ্ছে এবং একটি ডিপিপি গ্রহণ করা হচ্ছে। এর আওতায় প্রায় ৫০ কোটি টাকার একটি প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকে তা অনুমোদন হয়ে আসবে বলে তারা আশাবাদী, যেহেতু স্থানীয় সংসদ সদস্য এখন এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। এটি পাস হলে রাস্তাঘাট এবং ড্রেনেজের সমস্ত বিদ্যমান সমস্যা তুলে ধরে তা সমাধান করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।