আইজিপির ‘ক্রসফায়ারের’ পক্ষে সাফাই পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’ ও সাংবাদিকদের নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনার মুখে তার পক্ষে সাফাই গেয়েছে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।
 
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে বাহিনীটির ক্যাডার কর্মকর্তাদের এই পেশাগত সংগঠনটি দাবি করেছে, আইজিপির বক্তব্যটি মূলত প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানের কঠোর বাস্তবায়ন এবং অপরাধ দমনে পুলিশকে আরও দৃঢ় করার একটি সময়োপযোগী আহ্বান।

সোমবার (সোমবার) রাজধানীর চকবাজারের একটি অনুষ্ঠানে আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেছিলেন, আইন ও সংবিধান অনুযায়ী যেখানে যেমন প্রয়োজন, সরকার অনুমতি দিলে পুলিশ ‘ক্রসফায়ার’ করতেও পিছপা হবে না। একই সঙ্গে পুলিশের সমালোচনা নিয়ে সাংবাদিকদের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পুলিশ কঠোর হলে ফ্যাসিস্ট আর নীরব থাকলে দুর্বল বলা হয়। কাজ করার পরিবেশ ও এমপাওয়ারমেন্ট না দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

আইজিপির এই বক্তব্যের পর দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠলে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন ওই বিবৃতি দেয়।
 
বিবৃতিতে সরাসরি ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটির অবতারণা না করে বলা হয়, আইজিপির বক্তব্যের মূল তাৎপর্য হলো আইনের সীমার মধ্যে থেকে পরিস্থিতি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া এবং পুলিশ সদস্যদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো। সংগঠনের মতে, অপরাধ দমনে পুলিশ আইন প্রয়োগে দ্বিধাগ্রস্ত হলে অপরাধীরা উৎসাহিত হবে এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, মব কালচার এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাই আইজিপির বক্তব্যকে নেতিবাচকভাবে না দেখে আইন ও বিধিবিধানের আলোকেই বিবেচনা করা উচিত।
 
এদিকে বিবৃতিতে সরাসরি ‘ক্রসফায়ার’ শব্দ ব্যবহার না করার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন গণমাধ্যমকে জানান, তারা সব বিষয় বিবেচনা করেই বিবৃতি দিয়েছেন এবং পুলিশকে জনবান্ধব ও সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব নিয়ে কাজ করার পরিবেশ তৈরি করতে চান।