জাতিসংঘ: রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিক পাচার

রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে লড়তে প্রতারণা ও জবরদস্তির মাধ্যমে বাংলাদেশসহ ২৯টি দেশের নাগরিককে নিয়োগ দেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন। রুশ সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের আগে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের প্রলুব্ধ করা এবং রাশিয়ায় নেওয়ার পর সামরিক চুক্তিতে সই করতে বাধ্য করার তথ্য উঠে এসেছে কমিশনের প্রতিবেদনে। 

ইউক্রেনবিষয়ক স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব নিয়োগের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের দালাল ও নিয়োগকারী সংস্থার পাশাপাশি রুশ কর্তৃপক্ষের সমন্বয়েরও প্রমাণ পাওয়া গেছে। তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, শ্রীলঙ্কাসহ ইউরোপ, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ রয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর (ওএইচসিএইচআর) গত ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে এসব অনুসন্ধান তুলে ধরেছে তদন্ত কমিশন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের নিয়োগের সময় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের বৈধ এবং সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত সংস্থা হিসেবে পরিচয় দিত। তারা নিয়োগপ্রত্যাশীদের ভিসা ও ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র তৈরি করে দেওয়ার পাশাপাশি কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাঁদের সঙ্গে করে রাশিয়ায় নিয়ে যেত।

তবে রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাঁদের পরিস্থিতি বদলে যেত। কমিশনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এসব ব্যক্তিকে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সামরিক চুক্তিতে সই করতে বাধ্য করা হতো। চুক্তিগুলো রুশ ভাষায় লেখা থাকায় অনেকেই এর শর্ত বুঝতে পারতেন না। নিয়োগকারী চক্রগুলোর সঙ্গে রুশ কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ের বিষয়েও জোরালো প্রমাণ পেয়েছে কমিশন।

প্রতিবেদনে ক্যারিবীয় অঞ্চলের একটি দেশ থেকে নিয়োগ পাওয়া এক ব্যক্তির স্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তিনি কমিশনকে জানান, তাঁর স্বামীর পাসপোর্ট নিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরে তাঁকে চুক্তির বিভিন্ন জায়গায় সই করতে বলা হয়। পুরো চুক্তি রুশ ভাষায় লেখা থাকায় তাঁর স্বামীর কার্যত কোনো বিকল্প ছিল না।

কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এসব ব্যক্তিকে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁদের অনেকে নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। অন্যদের কেউ আত্মসমর্পণ করেছেন, আবার কেউ ইউক্রেনীয় বাহিনীর হাতে বন্দী হয়েছেন। বন্দী ব্যক্তিদের যুদ্ধবন্দির মর্যাদা দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে লড়তে বাংলাদেশি নাগরিকদেরও এভাবে নিয়োগ দেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন। তবে এ প্রক্রিয়ায় কতজন বাংলাদেশি নিয়োগ পেয়েছেন, তাঁদের কতজন যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে কিংবা কতজন নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন—প্রতিবেদনে তার নির্দিষ্ট হিসাব দেওয়া হয়নি।