মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের বাহেরান্দি এলাকায় মসজিদ কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ, বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের পর অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২০টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত বাহেরান্দি এলাকায় এমদাদ মাতুব্বর ও বাচ্চু মোড়লের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় চার মাস আগে বাহেরান্দি জামে মসজিদের সভাপতি হিসেবে এমদাদ মাতুব্বরের সমর্থক মোশারফ ফকিরের নাম ঘোষণা করেন মুসল্লিরা। তবে অপর পক্ষ বাচ্চু মোড়লকে সভাপতি করার দাবি জানায়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও উত্তেজনা চলছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই সময় বাচ্চু মোড়লের সমর্থকদের অন্তত ১০টি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার মাদারীপুর সদর থানায় মামলা করেন বাচ্চু মোড়ল।
এরপর বুধবার ভোররাত ৩টার দিকে এমদাদ মাতুব্বরের সমর্থকদের বসতবাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে বাচ্চু মোড়লের সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এ সময় কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের পর অগ্নিসংযোগ করা হয়। একপর্যায়ে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
পরে ভোর ৫টার দিকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সকাল ৮টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থলে এখনো কয়েকটি অবিস্ফোরিত ককটেল পড়ে রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। আতঙ্কে রয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা, বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির নারী ও শিশুরা।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে সংর্ঘষের দুপক্ষের কারো বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পাল্টা হামলার ঘটনায় এমদাদ মাতুব্বর মামলা করবেন বলেও পুলিশকে জানিয়েছেন।