জটিলতা কাটিয়ে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি শুরু: ভিসি

২৫ বছরের জটিলতা কাটিয়ে চলতি শিক্ষাবর্ষেই বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু করার আশা প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. কুদরত-ই-জাহান। 

তিনি জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত নয়টি বিষয়ে ভর্তি কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি চলছে। তবে সিন্ডিকেটের সদস্যসংখ্যা পূর্ণ না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম আটকে রয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন উপাচার্য।

তিনি বলেন, ২০০১ সালে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন প্রণয়ন করা হলেও এর পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে ২৫ বছর সময় লেগেছে। গত ১৯ জুলাই থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি দল ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেছে। প্রস্তাবিত নয়টি বিষয়ের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আগামী ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি। গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে এসব বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।

প্রস্তাবিত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে কৃষি অনুষদের কৃষি; মেডিকেল অনুষদের ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম); কলা অনুষদের ইংরেজি; ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ফিনটেক এবং ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট। এ ছাড়া প্রকৌশল অনুষদের অধীনে রয়েছে এআই অ্যান্ড ডেটা সায়েন্স, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ও রোবোটিকস।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ কার্যক্রমের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, বর্তমানে সিন্ডিকেটের সদস্যসংখ্যা ছয়জন। আরও তিনজন সদস্য যুক্ত হয়ে মোট সদস্যসংখ্যা নয়জনে উন্নীত হলে নিয়োগসহ বিভিন্ন কমিটি গঠন করা সম্ভব হবে। এ কারণে আপাতত বেশ কিছু প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা যাচ্ছে না।

নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যোগ্য ও সেরা শিক্ষকদের নিয়োগের মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থী গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়কে বহুমাত্রিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে, যেখানে বিজ্ঞান, কলা, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পড়ার সুযোগ থাকবে।

মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে সময়োপযোগী ও আধুনিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁরা বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিষয় নির্বাচন করা হলে শিক্ষার্থীরা কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি গবেষণার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নেও অবদান রাখতে পারবেন।

সাংবাদিকেরা আরও বলেন, বগুড়ার আড়াই হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রত্নতত্ত্ববিষয়ক বিভাগ চালু করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সাংবাদিকতা বিষয়টিও পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তাঁরা।

মতবিনিময় সভায় বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানু, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মিলন রহমান, ফজলে রাব্বী ডলার, রাহাত রিটু, বগুড়া টিভি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মোহন আখন্দ ও সাধারণ সম্পাদক মেহেরুল সুজন এবং দেশ রূপান্তরের বগুড়া প্রতিনিধি সাখাওয়াত হোসেন জনিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নে সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।