বাজারে নৈরাজ্য ঠেকাতে একদিনেই ৭০ প্রতিষ্ঠানকে বড় জরিমানা

নিত্যপণ্যের বাজারে অনিয়ম, অতিরিক্ত দামে বিক্রি ও ভেজাল প্রতিরোধে দেশজুড়ে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকা মহানগরসহ ৩৫টি জেলায় পরিচালিত এ অভিযানে ৭০টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬ লাখ ৪১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ সময় গাজীপুরের টঙ্গী বাজারে বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স ছাড়া ভেজাল সস বিক্রির দায়ে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি ৫০০ লিটার ভেজাল সস ধ্বংস করা হয়েছে।

অধিদপ্তর জানায়, বুধবার তাদের ৪৭টি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে পাইকারি ও খুচরা বাজারে ভোজ্যতেল, ছোলা, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। এ ছাড়া অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি, অযৌক্তিক মজুদ, কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং ওজন ও পরিমাপে কারচুপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

একই সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ও ওষুধ বিক্রি, নকল ও ভেজাল পণ্যের উৎপাদন ও বিপণন এবং হোটেল-রেস্তোরাঁয় বিধিবিধান লঙ্ঘনের বিষয়েও নজরদারি করা হয়।

অভিযান চলাকালে ব্যবসায়ীদের দোকানের দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন, সঠিক ওজন নিশ্চিত করা এবং পণ্যের সরবরাহে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

গাজীপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আফসানা পারভীনের নেতৃত্বে টঙ্গী বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় পাঁচ লিটার ধারণক্ষমতার ১০০টি পাত্রে থাকা মোট ৫০০ লিটার ভেজাল সস ধ্বংস করা হয়। বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স ছাড়া এসব সস বিক্রির দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানের অংশ হিসেবে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট ও প্যাম্ফলেট বিতরণ করা হয়। এ কাজে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প ও বণিক সমিতির প্রতিনিধিরা সহযোগিতা করেন।

বাজারে কৃত্রিম সংকট এড়াতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য না কেনার পরামর্শ দিয়েছে অধিদপ্তর। পণ্য কেনার আগে মূল্যতালিকা, সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয়মূল্য, উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ যাচাই করার পাশাপাশি বিক্রেতার কাছ থেকে ভাউচার সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে।

পণ্য কেনার ক্ষেত্রে অনিয়ম বা প্রতারণার শিকার হলে ভোক্তারা অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১-এ অভিযোগ জানাতে পারবেন। বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।