প্রশাসনের অভিযানেও বন্ধ হচ্ছে না বালু উত্তোলন

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুকুরিয়া, বাহারছড়া ও খানখানাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় সাঙ্গু নদী ও পাহাড়ি ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এতে কয়েকজন ব্যক্তির স্বার্থ রক্ষা হলেও পরিবেশ বিপর্যয়, নদীভাঙন ও বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদ ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উদ্যোগে বাঁশখালীর উপকূলীয় এলাকায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এর মধ্যেই পুকুরিয়া ও খানখানাবাদ ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে সাঙ্গু নদী থেকে বালু উত্তোলন করায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার ও বিভিন্ন যন্ত্র বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রশাসন অভিযান চালিয়ে জরিমানা করলেও কয়েক দিন বন্ধ থাকার পর আবারও শুরু হয় এ কার্যক্রম।

সরেজমিনে দেখা গেছে, তৈলারদ্বীপ সাঙ্গু সেতুর দক্ষিণ পাশে পিএবি প্রধান সড়কের পাশে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের আদেশক্রমে ‘শিরোপা বিল্ডার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বালু বিক্রয়কেন্দ্রের সাইনবোর্ড রয়েছে। সেখানে ডলুখাল বালুমহাল, চন্দনাইশের নাম উল্লেখ করে খননযন্ত্র বা ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন ও স্তূপ করে বিক্রির কার্যক্রম দেখা গেছে।

এ বিষয়ে শিরোপা বিল্ডার্সের বালু বিক্রয়কেন্দ্রের সাকিব সিকদার শাহীন বলেন, তাঁরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন না। জেলা প্রশাসকের অনুমোদন নিয়ে অন্য স্থান থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু এনে বিক্রি করছেন।

অন্যদিকে, পুকুরিয়ার তেচ্ছিপাড়া এলাকা ও খানখানাবাদের বিভিন্ন পয়েন্টে সরকারি অনুমোদন ছাড়াই প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও তলদেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

উপজেলার সাধনপুরের মৌলভী ঘোনা পানি চড়া, কালীপুর ইউনিয়ন পরিষদের পূর্ব পাশে জঙ্গল কোকদণ্ডী চড়া, ফকির মোহাম্মদ পাড়া এলাকার পূর্ব দিকে পাহাড়ি চড়া, বৈলছড়ী ইউনিয়নের পূর্ব বৈলছড়ী, অভ্যারখীল, পূর্ব চেচুরিয়া খদুল্ল্যাহ পাড়া, জলদী চুম্মাপাড়া ও কাজীর পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া চাম্বল ইউনিয়নের পূর্ব চাম্বল মিয়ার দোকানের পূর্ব পাশের ধূল্লাজিরি, চাম্বল ফরেস্ট রোড, আদর্শ গ্রাম, পাতলা মার্কেট ও সোনারখীল, পূর্ব নাপোড়া মীরাপাড়া ও ভিলেজার পাড়া, পূর্ব পুইছুড়ি এবং দক্ষিণ পুইছুড়ির পাহাড়ি ছড়ায় যন্ত্র বসিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। পরে ট্রাকে করে এসব বালু বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্ট ও ছড়াবেষ্টিত পাহাড়ি অঞ্চল থেকে একটি সিন্ডিকেট প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। ইজারা ছাড়াই কিংবা নির্ধারিত শর্ত ভঙ্গ করে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে এ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে আশপাশের কৃষিজমি, বসতভিটা ও বেড়িবাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, সাঙ্গু সেতুর পশ্চিম পাশ থেকে বালু উত্তোলনের কোনো অনুমোদন নেই। তবে ডলুখাল থেকে বালু এনে বিক্রির অনুমোদন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার জন্যও তিনি আহ্বান জানান।