সামাজিক মাধ্যমে অপমানের পরিণতি

সামাজিক মানুষের মতপ্রকাশের সুযোগ বাড়িয়েছে। এখন মুহূর্তেই নিজের বক্তব্য অন্যের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। কিন্তু এই সুযোগের অপব্যবহার করে অনেকে অন্যকে অপমান করেন। কারও ছবি, মন্তব্য বা ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে বিদ্রুপ করেন। কটু কথা লিখে হেয় করেন। এর পরিণতি ভালো নয়।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ অন্যকে উপহাস করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, ‘হে মুমিনরা! কোনো সম্প্রদায় যেন অপর কোনো সম্প্রদায়কে উপহাস না করে। হতে পারে, তারা উপহাসকারীদের চেয়ে উত্তম।’ (সুরা হুজুরাত ১১)

এ নির্দেশনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমানভাবে প্রযোজ্য। কারও মতের সঙ্গে দ্বিমত থাকলেই তাকে অপমান করা, কটাক্ষ করা কিংবা ব্যক্তিগত আক্রমণ করা ইসলামের আদর্শের পরিপন্থী।

ইসলাম মানুষের কথা ও আচরণে সংযমী হতে শেখায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে।’ (সহিহ বুখারি)

বর্তমানে লিখিত মন্তব্য, পোস্ট ও বার্তাও মানুষের মনে আঘাত দিতে পারে। তাই সামাজিক মাধ্যমে কিছু লেখার আগে তার পরিণতি নিয়ে ভাবা জরুরি।

কাউকে অপমান করা ছাড়াও তার ব্যক্তিগত দুর্বলতা প্রকাশ করা, পুরনো ভুল টেনে এনে হেয় করা কিংবা অসম্মানজনক ছবি ছড়িয়ে দেওয়া অন্যায়। কোনো তথ্য যাচাই না করে ছড়িয়ে দেওয়াও মানুষের ক্ষতির কারণ হতে পারে। মতবিরোধ দেখা দিলে যুক্তি ও শালীনতার সঙ্গে কথা বলা উচিত। ভুল ধরিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন হলেও তা করতে হবে সম্মান বজায় রেখে।

সামাজিক মাধ্যমের প্রতিটি ব্যবহারকারীকে মনে রাখতে হবে, অনলাইনের আচরণেরও নৈতিক দায় রয়েছে। একটি মন্তব্য কারও মনে দীর্ঘস্থায়ী কষ্ট তৈরি করতে পারে। তাই কিছু লেখার আগে নিজেকে প্রশ্ন করা দরকার, কথাটি কি সত্য, প্রয়োজনীয় ও শালীন? ইসলামের শিক্ষা হলো, মানুষের মর্যাদা রক্ষা করা, কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা এবং সুন্দর আচরণের মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে তোলা।

লেখক : ধর্মীয় নিবন্ধকার