আমরা চাই নতুন প্রজন্ম নিজেদের সংস্কৃতি ও শেকড়কে চিনুক

নাটক নির্বাচন ও নির্মাণের পেছনের ভাবনাটি জানতে চাই।

শিশুদের জন্য নাটক তৈরি করা সাধারণ নাটকের চেয়ে কিছুটা আলাদা। বার্তাটি সহজ হতে হয়, তবে এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী হওয়া চাই। বরেণ্য নাট্যকার নাজমা জেসমিন চৌধুরীর ‘ওরা ছিল বাগানে’ নাটকটি নির্বাচনের প্রধান কারণ এর মনস্তাত্ত্বিক ও প্রাকৃতিক মেলবন্ধন। নগরায়ণের ফলে শিশুরা এখন বন্দি। তাদের খেলার মাঠ কমে বহুতল ভবন হচ্ছে। এই নাটকে প্রকৃতির সঙ্গে শিশুদের আত্মিক মেলবন্ধন ও তাদের খেলার জায়গার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে, যা মূলত শিশুদের অধিকার রক্ষার কথা বলে।

কিশোরগঞ্জের লোকজ শিকড় থেকে শুরু করে দেশের গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আপনার এই সুদীর্ঘ পথচলা এবং থিয়েটার নিয়ে আপনার সামগ্রিক অভিজ্ঞতাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

থিয়েটার কর্মী হিসেবে বিভিন্ন দলে ও দেশ-বিদেশের নানা মঞ্চে কাজের অভিজ্ঞতা আমাকে স্থবির হতে দেয়নি। ১৯৯৩ সালে ‘চন্দ্রাবতী’ পালার মাধ্যমে শিশুশিল্পী হিসেবে আমার যাত্রা শুরু। কিশোরগঞ্জের সন্তান হওয়ায় লোকজ সংস্কৃতি ও পালা আমার রক্তে মিশে আছে। পরবর্তী সময় ‘মহুয়া’, ‘মলুয়া’, ‘সোনাই মাধব’, ‘তাসের দেশ’, ‘চিত্রাঙ্গদা’, ‘আলিবাবা ও চল্লিশ চোর’ এবং ‘ম্যাকবেথ’-এর মতো অসংখ্য প্রযোজনায় কাজ করেছি। এবার ৩০ অক্টোবর ‘ওরা ছিল বাগানে’ নাটকে ৩৫ জনের বেশি শিশুর সঙ্গে আমি নিজেও মঞ্চে পারফর্ম করছি। শিল্পের মূল নির্যাস ‘অনুভূতির প্রকাশ’। আমার অনুভূতিকে বাস্তব রূপ দেওয়ার চেষ্টা করে যাবো।

‘শিকড় চিলড্রেন্স থিয়েটার’ গঠনের মূল দর্শন ও কার্যক্রম কী?

নতুন প্রজন্ম যেন নিজেদের কৃষ্টি ও শেকড়কে চিনতে পারে, সেটাই শিকড়ের মূল উদ্দেশ্য। একা হয়ে পড়া শিশুদের থিয়েটার দলবদ্ধ হয়ে কাজ করতে ও মুক্তচিন্তা করতে শেখায়। শুধু নাটকেই সীমাবদ্ধ না থেকে আমরা বাচনভঙ্গি, অঙ্গভঙ্গি ও সৃজনশীল বিকাশের জন্য নিয়মিত কর্মশালার আয়োজন করি, যাতে তারা নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে বিকশিত হতে পারে।

নাটক প্রদর্শনীর পাশাপাশি লবিতে নানা আয়োজনের পেছনের চিন্তাটি কী?

এটিকে আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক উৎসবে রূপ দিতে চেয়েছি। মঞ্চনাটকের পাশাপাশি চিত্রপ্রদর্শনী, মাটির কাজ, টি-শার্ট ও ফেস পেইন্টিং, সন্ধ্যায় নৃত্য-গীত-আবৃত্তি এবং পাপেট শো রাখা হয়েছে। নিজের আঁকা ছবি প্রদর্শিত হতে দেখা বা মঞ্চে পারফর্ম করার অভিজ্ঞতা শিশুদের আত্মবিশ্বাস অনেকাংশে বাড়িয়ে দেবে।

বিগত প্রদর্শনীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতির অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

সেটি আমাদের জন্য অবিশ্বাস্য আনন্দের ও সম্মানজনক ছিল। তিনি সপরিবারে একজন সাধারণ দর্শকের মতো টিকিট কেটে নাটক উপভোগ করেছেন, প্রশংসাও করেছেন। শিশুদের নাট্যচর্চায় উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি স্কুলে কীভাবে নাট্যচর্চা চালু করা যায়, তা নিয়েও কথা বলেছেন। তার ও তার পরিবারের এই আন্তরিকতা আমাদের কাজকে আরও বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শক্তি দিয়েছে।

শিশুতোষ নাটকের ভবিষ্যৎ ও শিকড়ের আগামী পরিকল্পনা কী?

দেশে শিশুতোষ নাটকের চর্চা কিছুটা কম। আমরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মশালা করব এবং লোকজ উপাদান ও আধুনিক কৌশলের মিশ্রণে নিয়মিত নতুন প্রযোজনা আনব। আন্তর্জাতিক শিশু নাট্যোৎসবেও বাংলাদেশের শিশু থিয়েটারকে তুলে ধরার ইচ্ছে রয়েছে।