ঘূর্ণিঝড় অর্ণবে লন্ডভন্ড অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশায়, নিহত ৫ 

ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব'-এর তাণ্ডবে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং পৃথক ঘটনায় অন্তত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। খবর হিন্দুস্তান টাইমস।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোররাতে প্রবল শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করে। স্থলভাগে আঘাত হানার সময় এটি 'অতি প্রবল' ঘূর্ণিঝড় হিসেবে ১২৫-১৩৫ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়ে, যার দমকা হাওয়া কখনো কখনো ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার বিভিন্ন জেলায় ভারী বৃষ্টি হয়েছে। ঝড়ের আগেই দুই রাজ্যে ১ লক্ষ ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে সর্বোচ্চ ৩১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিজয়নগরমে ৩০১ মিলিমিটার, আনারাপল্লিতে ২৭৫ মিলিমিটার, শ্রীকাকুলামে ২৫৭ মিলিমিটার এবং কৃষ্ণা জেলায় ২২৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে ওডিশার কোরাপুটে ১৮৮ মিলিমিটার, গঞ্জামে ১৬১ মিলিমিটার এবং গজপতিতে ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম, অনাকাপল্লে, কাকিনাড়া, কোনাসীমা ও পশ্চিম গোদাবরী জেলায় গাছ চাপা পড়ে এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অন্তত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রাথমিক হিসাবে মৃতের সংখ্যা ৮ জন পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে।

ঝড়ের প্রভাবে প্রায় ২০০টির বেশি কাঁচা ও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ভেঙে পড়েছে। এর মধ্যে কিছু এলাকায় বহু বাড়ি সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। প্রায় ৭১ হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য হেক্টরপ্রতি ১৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বুধবার বিশাখাপত্তনম ও বিজয়ওয়াড়াগামী বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করেছে বিভিন্ন বিমান সংস্থা। বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে এবং বহু গাছ উপড়ে পড়েছে। কিছু এলাকায় স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে, বাতিল করা হয়েছে কয়েকটি ট্রেনের চলাচলও।

তবে ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে প্রাণহানির আর কোনও খবর পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বৃহস্পতিবারও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।