আর্চারির সোনার লড়াইয়ে ১৫ বছরের সায়মা

মাত্র ১৫ বছর বয়সেই আন্তর্জাতিক আর্চারির মঞ্চে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিচ্ছেন বাংলাদেশের সায়মা সালাহ উদ্দিন। ইরাকের সুলাইমানিয়ায় চলমান ২০২৬ এশিয়া কাপ ওয়ার্ল্ড র‍্যাঙ্কিং টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় লেগে রিকার্ভ নারী এককের ফাইনালে উঠেছেন বিকেএসপির এই শিক্ষার্থী। স্বর্ণপদকের লড়াইয়ে আজ ইরানের মোবিনা ফাল্লাহর মুখোমুখি হবেন তিনি।

ফাইনালে ওঠার পথে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে নজর কেড়েছেন সায়মা। কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে ৬৩৫ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থান অর্জন করেন তিনি। এরপর নকআউট পর্বে একের পর এক প্রতিপক্ষকে হারিয়ে জায়গা করে নেন শিরোপার লড়াইয়ে।

শেষ ষোলোতে পাকিস্তানের নিহাত নাহিদকে ৬–০ সেট পয়েন্টে হারান সায়মা। কোয়ার্টার ফাইনালে একই ব্যবধানে পরাজিত করেন আজারবাইজানের লালা আবদুরাহমানোভাকে। সেমিফাইনালে কাজাখস্তানের আলেক্সান্দ্রা জেমলিয়ানোভার বিপক্ষে অবশ্য কঠিন পরীক্ষা দিতে হয় তাঁকে। শেষ পর্যন্ত ৬–৪ সেট পয়েন্টে জয় নিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেন বাংলাদেশের এই তরুণ আর্চার।

 

সেমিফাইনালের জয়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে ৬৫৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ছিলেন জেমলিয়ানোভা। অন্যদিকে ফাইনালে সায়মার প্রতিপক্ষ মোবিনা ফাল্লাহ বাছাইপর্বে ৬৫৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। ফলে স্বর্ণপদকের লড়াইয়ে সায়মাকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখেই পড়তে হবে। তবে নকআউট পর্বে সায়মার পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, চাপের মুহূর্তেও লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য রয়েছে তাঁর। এখন ফাইনালে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে দেশের জন্য স্বর্ণপদক জয়ের হাতছানি এই তরুণীর সামনে।

 

জাতীয় পর্যায়েও নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন সায়মা। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘তীর ১৬তম জাতীয় আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৫’-এর রিকার্ভ নারী বিভাগের বাছাইপর্বে ৭২০-এর মধ্যে ৬৪৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান অর্জন করেন তিনি। পরে নকআউট পর্ব পেরিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে ব্রোঞ্জ পদক জেতেন।

 

মাত্র ১৪ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক আর্চারিতে যাত্রা শুরু করা সায়মা এখন বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় তরুণ রিকার্ভ নারী আর্চারদের একজন। পড়াশোনার পাশাপাশি বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণ নিয়ে এগিয়ে চলেছেন তিনি। নিয়মিত অনুশীলন, প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাসের সমন্বয়ে তাঁর এই অগ্রযাত্রা দেশের আর্চারিতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

আজ বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সায়মার সামনে এটি শুধু একটি পদকের লড়াই নয়, আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের সামর্থ্য আরও একবার প্রমাণ করার সুযোগ।

স্বর্ণপদক জিততে পারলে তা হবে সায়মার ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অর্জন। তবে ফলাফল যা-ই হোক, মাত্র ১৫ বছর বয়সে এশিয়া কাপের ফাইনালে ওঠাই তাঁর প্রতিভা ও সম্ভাবনার বড় প্রমাণ।